Berlin
সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
Breaking
ব্র্যাক ব্যাংকের ইস্যু করা দেশের প্রথম সোশ্যাল বন্ডে মেটলাইফের ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ জীবন বীমা কর্পোরেশনের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিয়াউল হক সোনালী লাইফের ২০২৬ সালের প্রথম মাসিক ব্যবসা উন্নয়ন সভা নন-লাইফ বীমায় শূন্য কমিশন বাস্তবায়নে মনিটরিং কমিটি গঠন মেটলাইফের ‘এজেন্সি অব দ্য ইয়ার ২০২৫’ পেল সুমন এজেন্সি নন-লাইফ বীমায় কমিশনের নামে আর্থিক সুবিধা নিষিদ্ধ, আইন ভাঙলে শাস্তি: আইডিআরএ তরুণদের নতুন ভরসা বীমা পেশা সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের দ্বাদশ বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত শক্তিশালী লাইফ ফান্ডে মজবুত ভিত্তি গার্ডিয়ান লাইফের বেঙ্গল ইসলামি লাইফ ও ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মধ্যে কর্পোরেট চুক্তি
গৌরব ও সাফল্যের দুই যুগ পেরিয়ে 

পঁচিশের অদম্য অগ্রযাত্রায় কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স

  • প্রকাশের সময় : ২ বছর ১ মাস ২ দিন ১৬ ঘন্টা ৭ মি. আগে, ১২:৩১:১১ এ.এম, মঙ্গল, ১২ ডিসে ২০২৩
  • 1779
ক্যাপশন প্রতিষ্ঠার রজত জয়ন্তী (Silver Jubilee) উদযাপন উপলক্ষে কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্সের প্রকাশিত লোগো।
নাসির আহমাদ রাসেল:

গৌরব ও সাফল্যের দুই যুগ পেরিয়ে প্রতিষ্ঠার পঁচিশ তম বর্ষে পদার্পণ করেছে সাধারণ বীমা খাতের কোম্পানি কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড। দুই যুগের এই পথ চলায় স্বচ্ছতা, বিশ্বস্ততা আর উন্নত গ্রাহকসেবার কারণে কন্টিনেন্টাল পৌঁছে গেছে মানুষের আস্থার শীর্ষে। 

১৯৯৯  সালের ১২ ডিসেম্বর যাত্রা শুরু করা  তৃতীয় প্রজন্মের এই কোম্পানি  দীর্ঘ দুই যুগের পথ চলায় অত্যাধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার করে বিশ্বমানের গ্রাহক সেবা, দ্রুততম সময়ে দাবি পরিশোধসহ বৈচিত্র্যময় বীমা পরিকল্প প্রণয়নের মাধ্যমে বীমাখাতে স্থাপন করেছে যুগান্তকারী মাইলফলক।‘সেবাই আদর্শ’ এই স্লোগান ধারণ করে প্রান্তে প্রান্তে পৌঁছে দিচ্ছে বীমার ইতিবাচক বার্তা। 

কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড পথচলার শুরু থেকেই পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে বাণিজ্যিক বীমা সুরক্ষা অব্যাহত রেখেছে। যথাসময়ে বীমা দাবি পরিশোধে সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ, তথ্যপ্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগ, গ্রাহকবান্ধব বীমাপণ্য, সেবার প্রতি দায়বদ্ধতা, জবাবদিহিতামূলক মনোভাব বিগত দুই যুগে কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্সকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। আর এটি সম্ভব হয়েছে একদল আত্মপ্রত্যয়ী কর্মীবাহিনী, সুসংহত সাংগঠনিক কাঠামো, ব্যবসার গুণগতমান এবং উন্নত গ্রাহকসেবার লক্ষ্য রেখে ব্যবসায়িক কৌশল নির্ধারণ ও বাস্তবায়নে সার্বক্ষণিক প্রচেষ্টার কারণে।

দেশের বাণিজ্যিক বীমা সুরক্ষার ক্ষেত্রে সাফল্যের গৌরবময় সব সূচকেও অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলেছে কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স।বিগত দুই যুগে গুরুত্বপূর্ণ সূচকগুলোতে কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স অর্জন করেছে সন্তোষজনক প্রবৃদ্ধি।২০০০ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত (সর্বশেষ নিরীক্ষিত হিসাব অনুযায়ী) কোম্পানিটি ১২৬  কোটি ২৩ লাখ টাকা বীমা দাবি বাবদ পরিশোধ করেছে । একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির গ্রস প্রিমিয়াম আয় ছিল ৮৪৯ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।

২০২২ সালে প্রতিষ্ঠানটির মূলধন দাঁড়িয়েছে ৪১ কোটি ৬০ লাখ টাকা। রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৫৯ কোটি ৪৬ লক্ষ টাকা। আলোচ্য বছরে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারহোল্ডার ইকুইটির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০৫ কোটি ৬১ লক্ষ টাকা। ২০২২ সাল পর্যন্ত কোম্পানির মোট সম্পদের পরিমাণ ১৪৮ কোটি ৩২ লাখ টাকা।

২০২২ সালের নিরীক্ষিত আার্থিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আলফা ক্রেডিট রেটিং কোম্পানি থেকে এএ+ ক্রেডিট রেটিং পেয়েছে কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড। যা আর্থিক ও কারিগরি কর্মক্ষমতা, মজবুত আর্থিক স্বচ্ছল অবস্থা, স্থানীয় ও বিদেশি পুনঃবীমাকারীদের সঙ্গে পুনঃবীমার সুবন্দোবস্ত, উত্তম অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ এবং সুদক্ষ ব্যবস্থাপনার প্রতীক।

পুঁজিবাজারেও বিনিয়োগকারীদের আস্থার জায়গা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড। ২০০৮ সালে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্তির পর  ব্যবসায়িক সাফল্যের ধারাবাহিকতায় প্রতিবছরই বিনিয়োগকারীদের সন্তোষজনক লভ্যাংশ প্রদান করছে কোম্পানিটি।

চলতি হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিক মিলিয়ে (জানুয়ারি’২৩-সেপ্টেম্বর’২৩) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৭৪ পয়সা। গত বছরের একই সময়ে তা ১ টাকা ৭২ পয়সা ছিল।

যেসব ইতিবাচক সূচকের কারণে বীমা খাতের একটি কোম্পানির প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও নির্ভরতা বৃদ্ধি পায় তার সবগুলিই রয়েছে কন্টিন্টোল ইন্স্যুরেন্সের। ব্যবস্থাপনা ব্যয় নির্ধারিত সীমার মধ্যে রাখা, ধারাবাহিক প্রিমিয়াম আয় বৃদ্ধি, প্রিমিয়াম আয়ের সঙ্গে সম্পদের পরিমাণ বৃদ্ধি ও যথাসময়ে বীমা দাবি পরিশোধ করেও কোম্পানি হিসেবে গ্রাহকের আস্থা অর্জন করেছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সাধারণ বীমা খাতের তৃতীয় প্রজন্মের এই কোম্পানি।

কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্সের পরিকল্পগুলোতেও রয়েছে নতুনত্ব ও উদ্ভাবনের ছোঁয়া। হজ্ব ও উমরাহ পলিসির মাধ্যমে এই পবিত্র ইবাদত পালন করতে গিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনায় মৃত্যু, স্থায়ী-অস্থায়ী শারিরীক আঘাত ও অক্ষমতায় বীমা সুরক্ষা দিচ্ছে কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স। 

গুরুতর অসুস্থতা কিংবা ক্রিটিকাল ইলনেস প্রটেকশন প্ল্যানের আওতায় বছরে কিছুমাত্র প্রিমিয়ামের বিনিময়ে মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হয়ে কর্মদক্ষতা বা কর্মক্ষমতা হারানো গ্রাহককে বীমা সুরক্ষা দিচ্ছে কন্টিনেন্টাল। ফলে নিশ্চিত বিপর্যয় বা অনিশ্চিত ভবিষ্যতের বিপরীতে বীমায় সুরক্ষিত থাকছে গ্রাহকের পরিবার ও জীবন।

এছাড়াও কোম্পানিটির নিয়মিত বীমা পরিকল্পের মধ্যে রয়েছে, ফায়ার ইন্স্যুরেন্স, মেরিন কার্গো ইন্স্যুরেন্স, মেরিন হাল ইন্স্যুরেন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্স্যুরেন্সসহ বিভিন্ন ধরনের মটর ইন্স্যুরেন্স। 

নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির মধ্যে কন্টিনেন্টালকে দেশের শীর্ষ কোম্পানির পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া, কর্পোরেট গভর্নেন্স আরো সুদৃঢ় করা এবং আরো দ্রুত সময়ের মধ্যে বীমা দাবি পরিশোধের ব্যবস্থা করা কোম্পানিটির পরিকল্পনাগুলোর মধ্যে অন্যতম। 

পরিচালনা পর্ষদের দূরদর্শী পরিকল্পনা, ব্যবস্থাপনা পর্ষদের সুদক্ষ নেতৃত্ব আর নিরলস পরিশ্রমে দেশ-বিদেশের অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ও সংস্থাগুলোরও নজর কেড়েছে কন্টিনেন্টাল। 

ফলে কোম্পানিটির সাফল্যের তালিকায় একের পর এক যুক্ত হয়েছে একাধিক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও।বীমাখাতে অসামান্য অবদান রাখায় ২০১২ সালে অত্যন্ত সম্মানসূচক সেঞ্চুরি ইন্টারন্যাশনাল গোল্ড কোয়ালিটি এরা অ্যাওয়ার্ড, ২০১৪ সালে জার্মানির ডায়মন্ড আই অ্যাওয়ার্ড ফর কোয়ালিটি কমিটমেন্ট এন্ড এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড এবং ২০১৩ সালে স্পেইনে বিজনেস ইনিশিয়েটিভ ডিরেক্টরসের ওয়ার্ল্ড কোয়ালিটি কমিটমেন্ট অ্যাওয়ার্ড অর্জন করে কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড।