মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) দায়িত্ব নিয়ে ফের সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সে প্রত্যাবর্তন করলেন কোম্পানিটির প্রতিষ্ঠাকালীন সিইও অজিত চন্দ্র আইচ।গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সোনালী লাইফের ৪৯ তম পর্ষদ সভায় আগামী তিন বছরের জন্য তাকে নিয়োগের এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।
তার এই নিয়োগের মধ্য দিয়ে দেশের চতুর্থ প্রজন্মের শীর্ষ বীমা কোম্পানি সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স আবারো একজন চৌকস এবং দূরদর্শী বীমা ব্যক্তিত্বের নেতৃত্ব পেতে যাচ্ছে।
মুখ্য নির্বাহী পদে অজিত চন্দ্র আইচের এই নিয়োগ অনুমোদনের জন্য ইতিমধ্যেই বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। এর আগে ২০১৩ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত অত্যন্ত দক্ষতা, নিষ্ঠা ও সাফল্যের সঙ্গে সোনালী লাইফের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
কোম্পানিটির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তার এই প্রত্যাবর্তন দেশের জীবন বীমা খাতের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা বলে মন্তব্য করেছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। তারা মনে করেন, সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মতো একটি কোম্পানি যার ১৫ লাখেরও বেশি গ্রাহক আর ২৬ হাজারের বেশি কর্মী রয়েছে। বিগত ১০ বছর চতুর্থ প্রজন্মের জীবন বীমা কোম্পানিগুলোর মধ্যে সোনালী লাইফ শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। কোম্পানিটির গ্রাহকদের বোনাস এবং শেয়ার হোল্ডারদের ডিভিডেন্ডও অনেক আকর্ষণীয়। এমন একটি কোম্পানিতে মুখ্য নির্বাহী হিসেবে দ্বিতীয়বার দায়িত্ব গ্রহণ অজিত চন্দ্র আইচের পেশাগত দক্ষতা, স্বচ্ছতা, দায়িত্বশীলতা ও সাফল্যের সাক্ষ্য বহন করে।
মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে অজিত চন্দ্র আইচ ইন্স্যুরেন্স ইনসাইডারকে বলেন, “সম্মানিত পরিচালনা পর্ষদ কোম্পানির বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনায় এনে আমাকে সিইও হিসেবে নিয়োগের সুপারিশ করে ফাইল বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছেন। আইডিআরএ’র অনুমোদন পেলেই দায়িত্ব গ্রহণ করব।”
বর্তমান পরিস্থিতি থেকে কোম্পানির উত্তরণ ও কোম্পানি নিয়ে ভবিষ্যত পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের এক বিশাল কর্মী বাহিনী রয়েছে, যথাযথ নেতৃত্বের মাধ্যমে তাদেরকে কাজে লাগিয়ে এবং বীমা আইন ও আইডিআরএ’র নির্দেশনা মেনে কোম্পানির সার্বিক কর্মকাণ্ড এগিয়ে নেব।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতির পাঠ নেয়া অজিত চন্দ্র আইচের পেশাগত জীবনের শুরু হয়েছিল ১৯৮৫ সালের ২০ মে জীবন বীমা কর্পোরেশনের চট্টগ্রামস্থ ৭১৭ ব্র্যাঞ্চে উন্নয়ন কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের মধ্য দিয়ে। ১৯৮৯ সালের শেষ দিকে দেশের প্রথম বেসরকারি জীবন বীমা কোম্পানি ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সে যোগ দেন আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক হিসেবে।
তৎকালীন বীমা ব্যক্তিত্ব এন এইচ সিদ্দিক ও এ টি এম জাফর উল্লাহ চৌধুরীর সরাসরি সান্নিধ্যে থেকে বীমা পেশাকে ভালোবেসে চ্যালেঞ্জ নিয়ে সারাদেশব্যাপী সংগঠন সৃষ্টি করে পর পর তিনবার জাতীয় পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি।
১৯৯৩ সালের মে মাসে ন্যাশনাল লাইফ ছেড়ে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সাবেক পার্লামেন্ট্রিয়ান এম মকবুল হোসেনের হাত ধরে সন্ধানী লাইফে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে যোগদান করেন। দীর্ঘ ২০ বছর সারাদেশে তৃণমূল পর্যায়ে, উপজেলা, জেলা বিভাগীয় পর্যায়ে সংগঠক ও কর্মী সৃষ্টির মাধ্যমে সন্ধানী লাইফকে একটি বটবৃক্ষে রূপান্তর করেন।
চতুর্থ প্রজন্মের ১৩ টি জীবন বীমা কোম্পানির মধ্যে সোনালি লাইফ ইন্স্যুরেন্স আইডিআরএ’ কর্তৃক প্রথম লাইসেন্সপ্রাপ্ত হয় এবং ২০১৩ সালের পহেলা আগস্ট থেকে পথ চলা শুরু করে। সোনালি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পরিচালনা পর্ষদ অজিত চন্দ্র আইচের দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতা ও কর্ম দক্ষতা বিবেচনা করে তাকে প্রতিষ্ঠাকালীন সিইও হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং যথারীতি আইডিআরএ’র অনুমোদনপ্রাপ্ত হন। পরবর্তীতে জনাব অজিত চন্দ্র আইচ সোনালি লাইফ ইন্স্যুরেন্সে শতভাগ তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর গ্রাহক সেবা প্রদান, প্রশিক্ষিত এজেন্ট কেন্দ্রিক বিপণন কার্যক্রম পরিচালনা, সর্বোপরি গ্রাহকের আস্থা অর্জনের লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্ভাবনী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। দেশের অন্তত ৪০ টি জেলায় উদ্যমী শিক্ষিত তরুণদের সংগঠিত করে সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করেন। জনাব অজিত চন্দ্র আইচের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও পরিচালনা পর্ষদের পূর্ণ সহযোগিতার ফলে মাত্র ছয় বছরের মধ্যে চতুর্থ প্রজন্মের প্রথম কোম্পানি হিসেবে পুঁজিবাজারে প্রবেশ করে সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স।
২০২০ সালের ৩০ জুন দীর্ঘ সাত বছরের কোম্পানির উন্নয়নের অগ্রযাত্রা চলমান রেখে তিনি প্রোগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্সে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। সেখানে সফলতার সাথে তিনি তিন বছর মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন।
সম্প্রতি সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সিইও’র কিছু ব্যক্তিগত কারণে বিদায় ঘটলে পদটি শূন্য হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে কোম্পানির উন্নয়ন ও গ্রাহক সেবা অব্যাহত রাখতে পরিচালনা পর্ষদ পুনরায় অজিত চন্দ্র আইচকে সোনালী লাইফের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগের জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং অনুমোদনের লক্ষ্যে আইডিআরএ ফাইল প্রেরণ করেন।
বীমা শিল্পের জীবন্ত কিংবদন্তী অজিত চন্দ্র আইচ পারিবারিক জীবনেও অত্যন্ত সফল পিতা।তার সহধর্মিণী শ্রীমতি চুমকি আইচ অজিত আইচের পেশাগত জীবনের সফলতার পেছনে যথেষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন ও ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তার মেয়ে ডাঃ অনিন্দিতা আইচ ও জামাতা ডাঃ শুভ কুমার বিশ্বাস অস্ট্রেলিয়ার টাউন্সভিল হাসপাতালে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত। ছেলে অভিজিত আইচ অস্ট্রেলিয়ার মেলবর্নে একটি সুপ্রতিষ্ঠিত কোম্পানীতে প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত আছেন এবং তারা সবাই স্থায়ীভাবে অস্ট্রেলিয়াতে বসবাস করছেন।












