দেশের জীবনবীমা খাতের চতুর্থ প্রজন্মের কোম্পানি সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের বিদ্যমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছে হাইকোর্ট।
সোমবার (২২ এপ্রিল) সোনালী লাইফের পরিচালকদের করা আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
একই সঙ্গে সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের বিদ্যমান পরিচালনা পর্ষদ বরখাস্ত করে প্রশাসক নিয়োগের আদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে।
এছাড়া সোনালী লাইফের পর্ষদ বরখাস্ত করতে বীমা আইন ২০১০ এর ৯৫ (১) ধারার প্রয়োগ কেন ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে গণ্য করা হবে না তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।
বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, কর্তৃপক্ষের পরিচালক (আইন) ও সোনালী লাইফে নিযুক্ত প্রশাসককে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এর আগে গত ১৮ এপ্রিল বীমা আইন ২০১০ এর ৯৫ (১) ধারার ক্ষমতাবলে সোনালী লাইফ পর্ষদকে ছয় মাসের জন্য বরখাস্ত করে অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম ফেরদৌস, এনডিসি, পিএসসিকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে আদেশ জারি করে আইডিআরএ।
একইসঙ্গে যত দ্রুত সম্ভব যোগ্য দেশি বা বিদেশি প্রতিষ্ঠান দিয়ে কোম্পানিটিতে পূর্ণাঙ্গ নিরীক্ষা পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) পরিচালক (আইন) মোহাঃ আব্দুল মজিদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানায় আইডিআরএ।
এর আগে একই দিনে সোনালী লাইফের পরিচালনা পর্ষদের মৌখিক শুনানি গ্রহণ করে সংস্থাটি। যার পরপরই প্রশাসক নিয়োগের চূড়ান্ত আদেশ জারি করে কর্তৃপক্ষ। রোববার (২১ এপ্রিল) এই আদেশ কার্যকর হয়।
এরপর সোমবার আইডিআরএ’র ওই আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করে সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পরিচালনা পর্ষদ।
সম্প্রতি নৈতিক স্খলন ও আর্থিক কেলেঙ্কারির দায়ে সোনালী লাইফের বরখাস্তকৃত মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মীর রাশেদ বিন আমানের অভিযোগের প্রেক্ষিতে কোম্পানিটিতে হুদা ভাসি চৌধুরী অ্যান্ড কোম্পানিকে নিরীক্ষক হিসেবে নিয়োগ করে আইডিআরএ।
সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কর্তৃপক্ষ বলছে, ওই নিরীক্ষা প্রতিবেদন তাদেরকে হস্তান্তর না করে এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগসমূহের ব্যাপারে যুক্তিখণ্ডানোর জন্য যথাযথ সময় এবং সুযোগ না দিয়েই তড়িঘড়ি করে প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় এবং চিঠি ইস্যু করা হয়।
আইডিআরএ নিয়োগকৃত নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান হুদা ভাসি চৌধুরী অ্যান্ড কোম্পানির প্রতিবেদনে সোনালী লাইফের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তফা গোলাম কুদ্দুসসহ কয়েকজন পরিচালকের বিরুদ্ধে কোম্পানির তহবিল থেকে অবৈধভাবে অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ উঠে এসেছে বলে দাবি করা হয়।
তবে অর্থ গ্রহণ করলেও দুর্নীতি বা অনিয়মের মাধ্যমে অবৈধভাবে আত্মসাতের অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন কোম্পানিটির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তফা গোলাম কুদ্দুস।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক সভাপতি মোস্তফা গোলাম কুদ্দুস দেশের বৃহত্তম সোয়েটার প্রস্তুত ও রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান ড্রাগন গ্রুপেরও চেয়ারম্যান। দেশের বীমাখাতেরও অত্যন্ত অভিজ্ঞ ও সফল একজন উদ্যোক্তা তিনি। ১৯৮৮ সালে তার প্রতিপ্রতিষ্ঠিত রূপালী ইন্স্যুরেন্স ব্যবসা সফল হওয়ার পর ২০১৩ সালে সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। এটিও দেশের বীমাখাতে ডিজিটালাইজেশনের আইকন হয়ে ওঠে। আস্থা অর্জন করে বিপুল সংখ্যক গ্রাহকের। বর্তমানে রূপালী ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন মোস্তফা গোলাম কুদ্দুস।
তিনি দাবি করেছেন, সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত তার মালিকানাধীন ভবনটির ভাড়া এবং কোম্পানিকে দেয়া ঋণ বাবদ পাওনা থেকেই বিভিন্নখাতে তিনি প্রায় দেড়শো কোটির মতো টাকা গ্রহণ করেছেন।











