বাংলাদেশে ব্যবসারত বৃহৎ বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির প্রয়োজনীয় উদ্যোগে সরকারের সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
বুধবার অর্থ ও বাণিজ্য উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে বৈঠকে কমিশনের পক্ষ থেকে এই সহায়তা চাওয়া হয়।
সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, দেশে ১৩টি বহুজাতিক কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রয়েছে। এরমধ্যে ৯টি কোম্পানির প্রকাশিত ২০২৩ সালের আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, বছর শেষে কোম্পানিগুলোর সমন্বিত নিট মুনাফা হয়েছে ৬ হাজার ৩৪৭ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। এর আগের বছর নিট মুনাফা হয়েছিল ৫ হাজার ৬১৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। এ হিসেবে আগের বছরের চেয়ে কোম্পানিগুলোর নিট মুনাফা বেড়েছে ৭৩২ কোটি ৯ লাখ টাকা বা ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ।
বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে- ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ, বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ, গ্রামীণফোন, হাইডেলবার্গ সিমেন্ট বাংলাদেশ, লিন্ডে বাংলাদেশ, ম্যারিকো বাংলাদেশ, আরএকে বাংলাদেশ, রেকিট বেনকিজার বাংলাদেশ পিএলসি, সিঙ্গার বাংলাদেশ, ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ার লিমিটেড, রবি, বাটা সু এবং লাফার্জ হোলসিম বাংলাদেশ লিমিটেড।
বুধবারের সভায় বিএসইসি’র চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ অর্থ উপদেষ্টার কাছে একগুচ্ছ প্রস্তাবনা তুলে ধরে সরকারের সহায়তা প্রত্যাশা করেন। এসব প্রস্তাবনার মধ্যে রয়েছে-পুঁজিবাজারে ক্যাপিটাল গেইনের উপর আরোপিত কর হার যৌক্তিককরণ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্কার আনয়ন, প্রাইভেট ও পাবলিক কোম্পানির ক্ষেত্রে কর হারে পার্থক্য যৌক্তিককরণ, আইসিবি’কে প্রয়োজনীয় তহবিল সরবরাহের মাধ্যমে আইসিবির বিনিয়োগ সক্ষমতা বৃদ্ধি, পুঁজিবাজারের গভীরতা বাড়াতে সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানিসমূহকে সরাসরি তালিকাভুক্তি বা আইপিও’র মাধ্যমে এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্তির সুযোগ সৃষ্টি ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ, বাংলাদেশে ব্যবসারত বৃহৎ বহুজাতিক কোম্পানিসমূহ’র পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ, দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের জন্য একটি নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করলে কোন কোম্পানিকে পরবর্তী অর্থায়নের জন্য ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে অর্থায়নের ক্ষেত্রে আবশ্যিকভাবে পুঁজিবাজার হতে উক্ত অর্থায়নের একটি নির্দিষ্ট অংশ অর্থায়নের জন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়নে নির্দেশনা প্রদান, আইনগত পর্যালোচনা করে পুঁজিবাজারে অনিয়মের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে হওয়া আর্থিক দন্ড থেকে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে আইনগত ব্যবস্থার মাধ্যমে বিএসইসি ইনভেস্টর প্রটেকশন ফান্ড তৈরি করা এবং পুঁজিবাজারে বিদ্যমান নেগেটিভ ইক্যুইটি সংক্রান্ত সমস্যার কার্যকর সমাধান ইত্যাদি।











