নন লাইফ বীমা খাতে এজেন্ট কমিশন শূন্য করতে হলে বীমা আইন ও এজেন্ট নিয়োগ, নিবন্ধন ও লাইসেন্স সংক্রান্ত প্রবিধানমালা সংশোধন করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) সাবেক প্রেসিডেন্ট নাসির উদ্দিন আহমেদ (পাভেল)।
সম্প্রতি নন লাইফ বীমা খাতে এজেন্ট কমিশন শূন্যে নামিয়ে আনার বিষয়ে চলমান আলোচনার প্রেক্ষিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নাসির উদ্দিন আহমেদ (পাভেল) বলেন, “২০২১ সালের মার্চে আইডিআরএ নন লাইফে এজেন্ট কমিশন শূন্য করে দেয়। তবে একই বছরের নভেম্বর মাসে ‘বীমা এজেন্ট (নিয়োগ, নিবন্ধন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২১’ জারি হওয়ার পর আবারও কমিশন ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। মূলত কমিশন শূন্যের সিদ্ধান্তটি বীমা আইন ২০১০-এর ৫৮(১) ধারা এবং প্রবিধানমালার ৬, ৭ ও ৮ ধারার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।”
তিনি বলেন, “বিদ্যমান আইনে এজেন্ট, এজেন্ট নিয়োগকারী বা ব্রোকার ছাড়া অন্য কাউকে প্রিমিয়াম সংগ্রহের জন্য পারিশ্রমিক দেওয়ার সুযোগ নেই। ফলে নন লাইফ কোম্পানিগুলোর উন্নয়ন কর্মকর্তারা প্রিমিয়াম আয়ের ভিত্তিতে যে আর্থিক সুবিধা পান, তা আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। সম্প্রতি আইনের সংশোধনী প্রস্তাবেও ৫৮(১) ধারা পরিবর্তনের উদ্যোগ দেখা যায়নি, যা পরিবর্তন করা জরুরি।”
বিআইএ’র সাবেক প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, “এজেন্ট প্রবিধানমালা অনুযায়ী নন লাইফের এজেন্টদের ৭২ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ শেষে তিন বছরের জন্য আইডিআরএ লাইসেন্স নিতে হয় এবং নবায়ন ফি দিয়েও তা হালনাগাদ করতে হয়। এই এজেন্টদের আয়ের ওপর সরকার রাজস্বও পায়। এমতাবস্থায় লাইসেন্স বাতিল না করে কমিশন শূন্য করলে তা আইনি প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। তাই বীমা আইন ও প্রবিধানমালা—দুটিই সংশোধন করা দরকার।”
তিনি আরও যোগ করেন, “যেহেতু ব্যক্তি এজেন্টই নন লাইফ খাতে একমাত্র মার্কেটিং ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেল, তাই সঠিক প্রক্রিয়া ছাড়া ২০২১ সালের মতো তড়িঘড়ি করে কমিশন শূন্য করা হলে কিছু কোম্পানির প্রিমিয়াম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থেকে যাবে।”











