এক সময় মানুষ ভাবত বীমা মানে কেবল বিক্রির কাজ, অনিশ্চিত আয় আর কম মর্যাদার পেশা। কিন্তু সেই ধারণা এখন অতীত। নতুন প্রজন্মের হাজারো তরুণ-তরুণী আজ এই খাতেই গড়ে তুলছেন স্বপ্নের ক্যারিয়ার, অর্জন করছেন আর্থিক স্বাধীনতা, সম্মান এবং আত্মবিশ্বাস।
বাংলাদেশের বীমা খাতে সফল ক্যারিয়ার গড়ে তুলছেন এমন অনেক পেশাজীবীর গল্প এখন আলোচনায়। তাঁদেরই একজন ওসমান গণি। ২০২২ সাল থেকে তিনি মেটলাইফ বাংলাদেশে ফিন্যান্সিয়াল অ্যাসোসিয়েট হিসেবে কাজ করছেন। একটি প্রতিষ্ঠিত ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে বীমা পেশায় তাঁর আগমন অনেকের কাছেই ব্যতিক্রমী হলেও, বাস্তবে এটি ছিল সুপরিকল্পিত একটি সিদ্ধান্ত।
ওসমান গণি মনে করেন, ব্যাংকিং খাতে চাকরির নিরাপত্তা থাকলেও আয়ের সুযোগ তুলনামূলকভাবে সীমিত। অন্যদিকে বীমা সেক্টরে ব্যক্তিগত দক্ষতা, গ্রাহক ব্যবস্থাপনা এবং পরিশ্রমের ওপর ভিত্তি করে দ্রুত আর্থিক স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব। এই উপলব্ধি থেকেই তিনি ক্যারিয়ার পরিবর্তনের ঝুঁকি নেন।
বীমা পেশায় যুক্ত হওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর জীবনে এসেছে দৃশ্যমান পরিবর্তন। নিজের পরিশ্রম ও সঠিক দিকনির্দেশনার মাধ্যমে তিনি নিজস্ব গাড়ি কেনার স্বপ্ন পূরণ করতে সক্ষম হয়েছেন-যা তাঁর কাছে শুধু একটি ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং পেশাগত সাফল্যের প্রতীক।
বাংলাদেশে বীমা খাত নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা নেতিবাচক ধারণা প্রচলিত রয়েছে।
ওসমান গণি বলেন, এমন মন্তব্য তিনিও অনেক শুনেছেন। তবে মেটলাইফ বাংলাদেশের ক্লেইম সেটেলমেন্ট বা বীমার টাকা পরিশোধের শক্তিশালী ট্র্যাক রেকর্ড তাঁকে গ্রাহকদের সামনে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলার সাহস দিয়েছে। তাঁর ভাষায়, যখন একটি প্রতিষ্ঠানের ক্লেইম পরিশোধের ইতিহাস স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য হয়, তখন গ্রাহকের আস্থাও স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়।
বর্তমানে মেটলাইফ বাংলাদেশে প্রায় ১৫ হাজার মাঠকর্মী বা এজেন্ট কাজ করছেন, যারা সারা দেশে মানুষের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখছেন। এই বিশাল কর্মীবাহিনীর অংশ হয়ে ওসমান গণির মতো পেশাজীবীরা প্রমাণ করছেন-বীমা খাত শুধু বিকল্প পেশা নয়, বরং সঠিক প্রস্তুতি ও আন্তরিকতা থাকলে এটি হতে পারে টেকসই ও লাভজনক ক্যারিয়ার গড়ার একটি কার্যকর মাধ্যম।
বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) তথ্যানুযায়ী, দেশে বর্তমানে ৮২ টি বীমা কোম্পানি কার্যক্রম পরিচালনা করছে-এর মধ্যে ৩৬টি লাইফ এবং ৪৬টি নন-লাইফ বীমা খাতের।
এরমধ্যে শুধুমাত্র জীবন বীমা বা লাইফ ইস্যুরেন্স খাতে কাজ করছেন ৪ লক্ষ ৬৪ হাজারেরও বেশি নিবন্ধিত এজেন্ট । যারা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত বীমা সেবা পৌঁছে দিচ্ছেন। আইডিআরএ’র সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ২০২৩ সালে দেশে লাইফ ইন্সুরেন্স খাতে শুধুমাত্র এজেন্ট লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়ন ফি বাবদই সরকারের আয় হয়েছে ৪০.৭৫ মিলিয়ন টাকা। এজেন্ট বা ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাসোসিয়েট হিসেবে এই বিপুলসংখ্যক মানুষের বীমা পেশায় অন্তর্ভুক্তিতে প্রমাণিত হয় পেশাটি এখন আর কোনোভাবেই ছোট বা অবহেলিত নয়। সমাজের গ্রহণযোগ্য ও সম্মানযোগ্য পেশার একটি হয়ে উঠেছে বীমা কোম্পানির এজেন্ট বা ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাসোসিয়েট।
দেশের বীমা কোম্পনিগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ’র সদস্য (লাইফ) আপেল মাহমুদ মনে করেন, “বীমা এখন বাংলাদেশের আর্থিক খাতের এক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। দক্ষ ও সৎ জনশক্তি এই খাতকে মানুষের আস্থার জায়গায় নিয়ে গেছেন। বীমা শুধু আয় নয়, আস্থা গড়ার পেশা। যারা এই খাতে এসেছেন, তারা বুঝেছেন-বীমা শুধুমাত্র পলিসি বিক্রি নয়; এটি মানুষের জীবনে আর্থিক নিরাপত্তা এনে দেয়, পরিবারের ভবিষ্যৎ সুরক্ষা নিশ্চিত করে। একজন ভালো এজেন্ট আসলে একজন ফাইন্যান্সিয়াল কনসালট্যান্ট, যিনি মানুষের জীবনে আর্থিক নিরাপত্তা আনতে সহযোগিতা করেন।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আজ যখন তরুণদের মধ্যে চাকরির অনিশ্চয়তা ও বেকারত্ব বাড়ছে, তখন বীমা পেশা তাদের সামনে একটি বাস্তব ও সম্ভাবনাময় বিকল্প। যেখানে রয়েছে স্বনির্ভরতার সুযোগ, কর্মের মর্যাদা এবং নিজের প্রচেষ্টায় সফল ক্যারিয়ার গড়ে তোলার স্বাধীনতা।
বীমায় ক্যারিয়ার মানেই-সাফল্যের আর্থিক পথের পাশাপাশি সমাজে আস্থার ভিত্তি তৈরি করা।
বীমা পেশায় সাফল্যের সূত্র হচ্ছে, পেশাদার জ্ঞান অর্জন, গ্রাহকের প্রয়োজন বুঝে সেবা দেওয়া, সততা ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, লক্ষ্য নির্ধারণ ও পরিকল্পনা মেনে চলা, সময়নিষ্ঠা ও নেটওয়ার্কিং।#










