বিশেষ প্রতিনিধি: সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য একক ও স্বাস্থ্যবীমা কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি চেয়ে প্রোটেক্টিভ ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের করা আবেদন নাকচ করে দিয়েছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)।
কর্তৃপক্ষের ১৫৫ তম সভায় অনুমোদন না দেয়ার এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় বলে সূত্র জানিয়েছে।
বীমা আইনে আরব আমিরাতে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য বীমা কার্যক্রম পরিচালনার কোনো বিধান না থাকা ও আবেদনকারী কোম্পানির সার্বিক আর্থিক অবস্থা এবং কার্যক্রম বিস্তারিত পর্যালোচনাক্রমে অনুমোদন না দেয়ার এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে সভার কার্যবিবরণীতে উল্লেখ করা হয়।
একইসঙ্গে বিষয়টি অবহিত করে প্রোটেক্টিভ ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিকে চিঠি পঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চিঠি পাননি বলে ব্যাংক বীমা অর্থনীতিকে জানিয়েছেন কোম্পানিটির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা ডা. কিশোর বিশ্বাস।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে একক ও স্বাস্থ্যবীমা কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি চেয়ে গত বছরের অক্টোবরে আইডিআরএ’র কাছে আবেদন করে প্রোটেক্টিভ ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্স।
ওই আবেদনে বলা হয়,“প্রোটেক্টিভ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড ২০১৩ সাল থেকে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে এবং বীমা আইন ও বিধি মোতাবেক সমগ্র বাংলাদেশে আপামর জনসাধারণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের স্বার্থে অত্যন্ত সুনামের সাথে জীবন বীমা ও স্বাস্থ্য বীমা সেবা পরিচালনা করে আসছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী বর্তমানে আরব আমিরাতে প্রায় ৮ লক্ষ বাংলাদেশী নাগরিক অবস্থান করছেন। এই বিশাল জনগোষ্ঠী গত ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশে প্রায় ১.৩৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণ করে দেশের বার্ষিক জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে সহায়তা করে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে
বসবাসরত অধিকাংশ বাংলাদেশিই শ্রমিক হিসেবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন। এ সকল শ্রমজীবী মানুষের ভবিষ্যত আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বীমা কার্যকর মাধ্যম হতে পারে। কিন্তু তারা বিদেশে অবস্থান করায় বিদেশি কোন বীমা কোম্পানির নিকট দীর্ঘমেয়াদী কোন বীমা পলিসি ক্রয় করতে পারেন না আবার দেশে না থাকায় দেশি বীমা কোম্পানির সেবাও তারা গ্রহণ করতে পারেন না।
যার ফলে একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠী বীমার বাহিরে রয়েছে। এ শূন্যতা পূরণকল্পে বিদেশের মাটিতে দেশি কোন কোম্পানি বীমা শাখা খুলে বীমা ব্যবসা পরিচালনা করলে একদিকে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশের নাগরিকদের বীমার আওতায় আনা যাবে; অন্যদিকে তাদের আর্থিক নিরাপত্তাও নিশ্চিত হবে। এ বিষয়গুলো বিবেচনা করে প্রোটেক্টিভ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে একটি শাখা খুলতে ইচছুক, যার মাধ্যমে দুবাইয়ে অবস্থিত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিকট সঞ্চয় সৃষ্টিকারী বিভিন্ন বীমা পরিকল্প বিক্রি করার সুযোগ তৈরী হবে। এর মাধ্যমে প্রোটেক্টিভ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের প্রিমিয়াম আয় যেমন বাড়বে তেমনিভাবে বীমাভুক্ত জনগোষ্ঠীর আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।
ভারতের রাষ্ট্রীয় বীমা কর্পোরেশেন এলআইসি বিশ্বের অন্যান্য দেশসহ মধ্যপ্রাচ্যের সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন, ওমান ও কাতারে শাখা অফিস খুলে বীমা ব্যবসা পরিচালনা করছে। এতে তারা যেমন প্রিমিয়াম আয়ের সুযোগ পায় তেমনিভাবে অর্জিত বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা দেশে প্রয়োগের সুযোগ করে দেয় যা দেশের বীমাখাতের গুনগত মান উন্নয়নে সহায়তা করে থাকে।
এমবতাবস্থায়, উল্লিখিত সুবিধাগুলো বিবেচনা করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অবস্থিত বাংলাদেশী নাগরিকদের নিকট বীমা সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে একটি শাখা অফিস খুলে সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশী নাগরিকদের জীবন বীমা ও স্বাস্থ্য বীমা সেবা প্রদান করার অনুমোদনের জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।”












