বীমা শিল্পে নুরে আলম ছিদ্দিকী অভি’র যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০০০ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালেই। ওই বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিশ্বখ্যাত আমেরিকান লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি এলিকো তে ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাসোসিয়েট হিসেবে যোগদান করেন তিনি। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। অদম্য প্রাণশক্তি আর কঠিন পরিশ্রমে একের পর এক সাফল্যকে জয় করে নিয়েছেন অভি।
এলিকোর ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাসোসিয়েট, ইউনিট ম্যানেজার, ব্র্যাঞ্চ ম্যানেজার হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন অনন্য উচ্চতায়। শুধু বাংলাদেশেই নয় গোটা বিশ্বজুড়ে এসব পদগুলোতে সাফল্যের দিক থেকে এলিকোর সেরা কর্মকর্তা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বারবার। বীমা কোম্পানিটিতে কর্মরত অবস্থায় তিনি ১৭ জন ব্র্যাঞ্চ ম্যানেজার করেন যা এলিকোর ইতিহাসে বিরল। ওই সময় বীমা জগতে এলিকোর অভি এজেন্সি একটি জনপ্রিয় মডেল হিসেবে সবার কাছে পরিচিতি পায়। এই সাফল্যের পুরস্কার হিসেবে প্রশিক্ষণ ও বিনোদনের জন্য ৪৮টি দেশ ভ্রমণ করার সুযোগ পান তিনি।

২০১৪ সালে এলিকো থেকে অবসর গ্রহণ করে চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ফাউন্ডার হেড অব সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং হিসেবে যোগদান করেন সফল এই বীমা নেতৃত্ব। ২০১৫ সালে চার্টার্ড লাইফ ছেড়ে ফাউন্ডার হেড অব সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং হিসাবে যোগদান করেন সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে। এসব কোম্পানিতে যোগ দিয়েএলিকোর আদলে তিন স্তরের মাঠ পর্যায়ের বীমা নেতৃত্ব (FA, UM, BM) প্রবর্তনের মাধ্যমে বাংলাদেশের বীমা শিল্পে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেন অভি।

সুদীর্ঘ ক্যারিয়ারে সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ২০২০ সালের ২৬ জানুয়ারি আলফা ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও হেড অব সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং পদে যোগদান করেন তিনি । যোগদানের পর পরই অতি অল্প সময়ের ব্যবধানে আলফা ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্সকে একটি দুর্বল প্রিমিয়াম সংগ্রহকারী কোম্পানি থেকে উচ্চমাত্রার প্রিমিয়াম সংগ্রহকারী কোম্পানিতে পরিণত করেন তিনি। নুরে আলম সিদ্দিকী অভির সুদক্ষ নেতৃত্বে ব্যবসায়িকভাবে একটি সফল অবস্থানে উঠে আসে আলফা ইসলামি লাইফ ইন্সুরেন্স। অতি অল্প সময়ে অসামান্য এই ব্যবসায়িক সাফল্যে মুগ্ধ হয়ে নুরে আলম সিদ্দিকীকে ২০২০ সালেই ভারপ্রাপ্ত মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োজিত করেন আলফা ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ।
চলতি বছরের ০১ মার্চ থেকে আলফা ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পদে নুরে আলম ছিদ্দিকী অভি’র নিয়োগ অনুমোদন করে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)।
বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে সরবরাহকৃত হিসাব অনুযায়ী, ২০২০ সালে নুরে আলম সিদ্দিকী অভি যোগদানের পর ১৯ কোটি তিন লক্ষ ৮৮ হাজার টাকা গ্রোস প্রিমিয়াম সংগ্রহ করে আলফা লাইফ ইন্স্যুরেন্স। অথচ এর এক বছর আগে ২০১৯ সালে কোম্পানিটির গ্রোস প্রিমিয়াম ছিল মাত্র এক কোটি ৮৫ লক্ষ টাকা। ২০২১ সালে ৬০ কোটি ৬১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা গ্রোস প্রিমিয়াম সংগ্রহ করে আলফা লাইফ, ২০২২ সালে এই প্রিমিয়াম সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৫৫ কোটি ৫৬ লক্ষ টাকা।ওই বছরের অক্টোবরে একশ কোটি টাকা প্রিমিয়াম অর্জনের সাফল্য উদযাপন করে আলফা লাইফ। সম্প্রতি ইন্স্যুরেন্স ইনসাইডারকে দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য তুলে ধরেন আলফা ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নুরে আলম সিদ্দিকী অভি।
তিনি জানান, চলতি ২০২৩ সালে দুইশত কোটি টাকা প্রিমিয়াম অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে আলফা লাইফ। ২০২৪ সালে এই লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০০ কোটি টাকা। ২০২৫ সালে সাতশত কোটি টাকা এবং ২০২৬ সালে এক হাজার কোটি টাকা প্রিমিয়াম অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে আলফা লাইফ। ইন্স্যুরেন্স ইনসাইডারের সঙ্গে আলাপকালে নুরে আলম সিদ্দিকী অভি বলেন,২০২৫ সালের মধ্যে ব্যবসায়িক অর্জনের দিক থেকে আলফা ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্সকে জীবন বীমা খাতের সেরা কোম্পানিতে পরিণত করার লক্ষ্য ও পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন তিনি।
তিনি জানান,২০১৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত আলফা লাইফের লাইবেলিটিজ ছিল ৯ কোটি ২০ লক্ষ টাকার, এর মধ্যে ৬ কোটি ১৪ লক্ষ টাকা ইতিমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে। নুরে আলম সিদ্দিকী কোম্পানিটিতে যোগদানের আগে নেতিবাচক অংকে থাকা কোম্পানিটির চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত লাইফ ফান্ড দাঁড়িয়েছে ৮২ কোটি টাকায়।
২০২৩ সালের মধ্যে এই লাইফ ফান্ড ২০০ কোটি টাকা করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে আলফা ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্স।
বর্তমানে মৃত্যু দাবিসহ যেকোন বীমাদাবি সাত দিনের মধ্যে পরিশোধ করছে কোম্পানিটি।
মেয়াদউত্তীর্ণ বীমা দাবি পরিশোধে এই মুহূর্তে পূর্ণ সক্ষমতা রয়েছে আলফা ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের।











