গৌরব ও সাফল্যের এক দশক পেরিয়ে প্রতিষ্ঠার একাদশ বর্ষে পদার্পণ করেছে চতুর্থ প্রজন্মের বীমা কোম্পানি সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স।
শনিবার (৫ আগস্ট) নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) গৌরবগাথার দশমবর্ষপূর্তি উদযাপন ও একাদশ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করে সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স।মূল অনুষ্ঠান শুরুর আগে কেক কেটে দিবসের আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়।
কেক কাটেন কোম্পানির স্বপ্নদ্রষ্টা মোস্তফা গোলাম কুদ্দুস। উপস্থিত ছিলেন বীমা মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশনের (বিআইএ) সভাপতি শেখ কবির হোসেন।
আরও ছিলেন মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মীর রাশেদ বিন আমান, সোনালী লাইফের ভাইস চেয়ারম্যান ফৌজিয়া কামরুন তানিয়া, রূপালী ইন্স্যুরেন্সের উপদেষ্টা পিকে রয়, সোনালী লাইফের পরিচালক শেখ মোহাম্মদ ড্যানিয়েল, স্বাধীন পরিচালক কাজী মনিরুজ্জামান, পরিচালক ফিরোজুর রহমান ওলিও প্রমুখ।
২০১৩ সালের আগস্টে যাত্রা শুরু করা সোনালী লাইফ দীর্ঘ ১০ বছরের পথচলায় অত্যাধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং মাত্র সাত দিনে মৃত্যুদাবী পরিশোধসহ নানা অভিনব সেবা প্রদানের মাধ্যমে বীমাখাতে যুগান্তকারী মাইলফলক স্থাপন করেছে।
এক দশকের এই পথ চলায় স্বচ্ছতা, বিশ্বস্ততা আর উন্নত গ্রাহকসেবার কারণে সোনালী লাইফ পৌঁছে গেছে মানুষের আস্থার শীর্ষে। গোটা খাত যখন বীমার ইমেজ পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে ব্যস্ত ঠিক তখন, ‘সোনালী জীবন, সুখের জীবন’ এই স্লোগান ধারণ করে টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া পর্যন্ত মানুষের ঘরে ঘরে বীমার ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন সোনালী লাইফের কর্মীরা। শতভাগ তথ্য প্রযুক্তিভিত্তিক গ্রাহক সেবার কারণে সোনালী লাইফ হয়ে উঠেছে বীমায় ডিজিটালাইজেশনের আইকন। যথাসময়ে গ্রাহকের দাবি পরিশোধ না করায় বীমাখাত যেখানে ইমেজ সংকটে ভুগছে, সোনালী লাইফের স্বচ্ছ কর্মকাণ্ড সেখানে বীমার প্রতি গ্রাহকের আস্থা ফিরিয়ে দিচ্ছে প্রতিনিয়ত। এক দশকের পথ চলায় গ্রাহকের বীমা দাবি পরিশোধে যথাসময়ের পর একদিনও দেরি করেনি সোনালী লাইফ। মৃত্যু দাবি, এসবি’র মতো দাবিগুলোও পরিশোধ করা হয় সর্বোচ্চ সাত দিনের মধ্যে। কোম্পানিটির অনিরীক্ষিত ষান্মাসিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের প্রথম ৬ মাসে প্রায় ৩৪৭ কোটি টাকার গ্রস প্রিমিয়াম সংগ্রহ করেছে সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি। এ সময় কোম্পানিটির লাইফ ফান্ডে নতুন তহবিল যুক্ত হয়েছে ১৮৭ কোটি টাকা।

২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৬ মাসে সোনালী লাইফের গ্রস প্রিমিয়াম সংগ্রহ ৩৪৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এর আগে ২০২২ সালের প্রথম ৬ মাসে কোম্পানিটির গ্রস প্রিমিয়াম সংগ্রহ ছিল ২৩৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।
এই হিসাবে ২০২৩ সালের প্রথম ৬ মাসে কোম্পানিটির গ্রস প্রিমিয়াম সংগ্রহ বেড়েছে ১১১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা বা ৪৭ শতাংশ।
২০২৩ সালের প্রথম ৬ মাসে সোনালী লাইফের গ্রুপ ও একক বীমার প্রথম বর্ষ প্রিমিয়াম সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ১৯৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। এর আগে ২০২২ সালে যা ছিল ১৪০ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ বৃদ্ধি ৫৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকা বা ৪০ শতাংশ।
গত ছয় মাসে কোম্পানিটির নবায়ন প্রিমিয়াম এসেছে ১৫০ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৯৪ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। এই হিসাবে নবায়ন প্রিমিয়াম সংগ্রহ বেড়েছে ৫৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা, যা ৫৮ শতাংশ।
২০২৩ সালের প্রথম ৬ মাসে সোনালী লাইফের লাইফ ফান্ড বেড়েছে ১৮৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। এতে কোম্পানিটির লাইফ ফান্ডের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৫৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।
সবচেয়ে আশার বিষয় হচ্ছে বেশিরভাগ বীমা কোম্পানি যখন ব্যবস্থাপনাখাতে নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত খরচ করে ঝুঁকিতে রয়েছে, সেখানে নির্ধারিত সীমার চেয়েও ২০২২ সালে ৩৩ শতাংশ কম খরচ করেছে সোনালী লাইফ।
মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার পদে থেকে কোম্পানিটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন মীর রাশেদ বিন আমান। যার দিকনির্দেশনায় প্রতিনিয়ত বাড়ছে সোনালী লাইফের গ্রাহকসংখ্যা।
মীর রাশেদ বিন আমানের দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে দেশ-বিদেশের অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ও সংস্থাগুলোর নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছে সোনালী লাইফ। ফলে সোনালী লাইফের সাফল্যের মুকুটে একের পর এক যুক্ত হচ্ছে রঙিন পালক।
সর্বশেষ বীমাখাতে অসামান্য অবদান রাখায় কমনওয়েলথ বিজনেস এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড-২০২৩ পেয়েছে চতুর্থ প্রজন্মের বীমা কোম্পানি সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও প্রতিষ্ঠানটির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মীর রাশেদ বিন আমান। কোম্পানি হিসেবে সোনালী লাইফ ৪টি এবং সিইও আলাদা ২টি পুরস্কার পেয়েছেন।
পুরস্কারের মধ্যে সোনালী লাইফ ১. ডোমেস্টিক লাইফ ইন্স্যুরেন্স ইন দ্যা ইয়ার, ২. ইন্স্যুরটেক ইনিশিয়েটিভ অফ দ্যা ইয়ার, ৩. ডিজিটাল ইন্স্যুরেন্স ইনিশিয়েটিভ অফ দ্য ইয়ার এবং ৪. বেস্ট কাস্টমার সার্ভিস ইনিশিয়েটিভ অফ দ্যা ইয়ার পুরস্কার পায়।
বীমা খাতে ডিজিটালাইজেশন এবং দক্ষ নেতৃত্ব দেওয়ায় মীর রাশেদ বীন আমানকে ১. দ্যা সিইও অব দ্যা ইয়ার এবং ২. দ্যা ইন্ডাস্ট্রি অ্যাম্বাসেডর অব দ্যা ইয়ার পুরস্কার দেওয়া হয়।
এর আগে সোনালী লাইফ সাউথ এশিয়া বিজনেস এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড-২০২২-এ চারটি ক্যাটাগরিতে সম্মাননা অর্জন করে। সেগুলো হলো- ১. বেস্ট ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি ইন প্রাইভেট সেক্টর, ২. বেস্ট ইউজ অব আইটি অ্যান্ড টেকনোলজি ইন ইন্স্যুরেন্স সেক্টর, ৩. আউটস্ট্যান্ডিং ইয়ং লিডারশিপ এক্সিলেন্স ইন ইন্স্যুরেন্স সেক্টর এবং ৪. বেস্ট ইউজ অব মোবাইল টেকনোলজি ইন ইন্স্যুরেন্স সেক্টর।
মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মীর রাশেদ বিন আমান জানান, সর্বাধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে এখানে গ্রাহক ট্রাডিশনাল ব্যাংকিং এবং মোবাইল ব্যাংকিং পদ্ধতি ব্যবহার করে নিজের প্রিমিয়াম নিজেই জমা দিতে পারেন। সংগ্রহ করতে পারেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি ডকুমেন্টস।
ইচ্ছে করলেই অ্যাপস কিংবা ওয়েবসাইট ব্রাউজ করে পলিসি হোল্ডার লগইনে গিয়ে দেখে আসতে পারেন নিজের হিসাব নিকাশ। সুতরাং প্রিমিয়ামের অর্থ বেহাত হওয়ার কোনো শঙ্কা থাকে না সোনালী গ্রাহকের। নবায়ন প্রিমিয়াম জমা হলেই গ্রাহকের কাছে পৌঁছে যায় শুভেচ্ছা উপহার। পাঁচ তারকা হোটেল থেকে শুরু করে সুপার শপ, এমন ছয় শতাধিক প্রতিষ্ঠানের ডিসকাউন্ট সুবিধা পেয়ে থাকেন সোনালী লাইফের লয়ালিটি কার্ডধারী গ্রাহকরা।
চতুর্থ প্রজন্মের এই কোম্পানিটি বীমা খাতে এমন কিছু দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছে- যা ইতিপূর্বে কেউ করেনি। ফলে স্বয়ং বীমা নিয়ন্ত্রক সংস্থার (আইডিআরএ) পক্ষ থেকে চিঠি দিয়ে অন্যান্য কোম্পানিকে বলা হয়েছে সোনালী লাইফের ডিজিটাল কার্যক্রমকে অনুসরণ করার।
মীর রাশেদ বিন আমান জানান, সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স দেশের প্রথম ও পূর্ণাঙ্গ তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর জীবন বীমা কোম্পানি। পরিচালনা পর্ষদের দূরদর্শী পরিকল্পনা এবং ব্যবস্থাপনা পর্ষদের দক্ষতা ও পরিশ্রমে অতি অল্প সময়ে জীবন বীমা খাতের উল্লেখযোগ্য কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে সোনালী লাইফ।#











