New York
সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
Breaking
ব্র্যাক ব্যাংকের ইস্যু করা দেশের প্রথম সোশ্যাল বন্ডে মেটলাইফের ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ জীবন বীমা কর্পোরেশনের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিয়াউল হক সোনালী লাইফের ২০২৬ সালের প্রথম মাসিক ব্যবসা উন্নয়ন সভা নন-লাইফ বীমায় শূন্য কমিশন বাস্তবায়নে মনিটরিং কমিটি গঠন মেটলাইফের ‘এজেন্সি অব দ্য ইয়ার ২০২৫’ পেল সুমন এজেন্সি নন-লাইফ বীমায় কমিশনের নামে আর্থিক সুবিধা নিষিদ্ধ, আইন ভাঙলে শাস্তি: আইডিআরএ তরুণদের নতুন ভরসা বীমা পেশা সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের দ্বাদশ বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত শক্তিশালী লাইফ ফান্ডে মজবুত ভিত্তি গার্ডিয়ান লাইফের বেঙ্গল ইসলামি লাইফ ও ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মধ্যে কর্পোরেট চুক্তি
মুখ্য নির্বাহী পদে চতুর্থবারের মতো নিয়োগ অনুমোদন আইডিআরএ’র

সফল বীমা ব্যক্তিত্ব পিপলু বিশ্বাসেই আস্থা ডায়মন্ড লাইফ পরিবারের

  • প্রকাশের সময় : ১ বছর ৯ মাস ২ সপ্তাহ ৮ ঘন্টা ৯ মি. আগে, ০৩:৩৭:২৪ এ.এম, বুধ, ৩ এপ্রি ২০২৪
  • 3225

বক্তব্য রাখছেন ডায়মন্ড লাইফের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা পিপলু বিশ্বাস।

ক্যাপশন ডায়মন্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী জনাব পিপলু বিশ্বাস। ছবি: ইন্স্যুরেন্স ইনসাইডার।
বিশেষ প্রতিবেদক:

চর্থবারের মতো ডায়মন্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা পদে চার দশকের  অভিজ্ঞতায়ঋদ্ধ সফল বীমা ব্যক্তিত্ব পিপলু বিশ্বাসের নিয়োগ অনুমোদন করেছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)।

গত ৩০ জানুয়ারি আইডিআরএ’র পরিচালক আহম্মদ এহসান উল হান্নান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই  অনুমোদনের কথা সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়।

ফলে ২০২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আরও তিন বছরের জন্য একনিষ্ঠ এই বীমা ব্যক্তিত্বের নেতৃত্ব পেতে যাচ্ছে ডায়মন্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স পরিবার।

২০১৭ সালের ১৭ মার্চ ডায়মন্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য  নির্বাহী কর্মকর্তা পদে যোগদান করে টানা অষ্টম বছরের মতো সাফল্য ও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন পিপলু বিশ্বাস। যোগদানের পর থেকেই তার দূরদর্শী নেতৃত্ব, আন্তরিক প্রচেষ্টা ও বিচক্ষণতায় ডায়মন্ড লাইফের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে।

অত্যাধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার করে উন্নত গ্রাহক সেবা, যথাসময়ে বীমা দাবি পরিশোধে সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ, গ্রাহকবান্ধব বীমাপণ্য, সেবার প্রতি দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতামূলক মনোভাব পোষণ করে ডায়মন্ড লাইফকে গ্রাহকের বিশ্বস্ত ঠিকানায় পরিণত করেছেন পেশাগত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতায়ঋদ্ধ চৌকস এই বীমা নেতৃত্ব।

পিপলু বিশ্বাসের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ডায়মন্ড লাইফে তৈরি হয়েছে একদল আত্মপ্রত্যয়ী কর্মীবাহিনী, সুসংহত সাংগঠনিক কাঠামো। ব্যবসার গুণগতমান বৃদ্ধি, উন্নত গ্রাহকসেবার লক্ষ্য নিয়ে ব্যবসায়িক কৌশল নির্ধারণ ও তা বাস্তবায়নে দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে নিরন্তর ছুটে চলেছেন নিরলস এই বীমা ব্যক্তিত্ব। বিগত কয়েক বছরে গুরুত্বপূর্ণ সূচকগুলোতেও সন্তোষজনক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে ডায়মন্ড লাইফ। ফলে জনাব বিশ্বাসের সুদক্ষ নেতৃত্বেই আস্থা রাখছে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ।

বিশ্লেষকরাও মনে করেন, পিপলু বিশ্বাসের মতো চার দশকের সাফল্যময় অভিজ্ঞতাপূর্ণ একনিষ্ঠ একজন মুখ্য  নির্বাহী কর্মকর্তাকে আরো তিন বছরের জন্য ডায়মন্ড লাইফের দায়িত্ব দেয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে আরও বহুদূর এগিয়ে নেয়ার সুযোগ সৃষ্টি হলো।

বীমা পেশায় পিপলু বিশ্বাসের যাত্রা শুরু হয়েছিল আজ থেকে প্রায় চার দশক আগে,  প্রয়াত বীমা ব্যক্তিত্ব মুজিবুল হায়দার চৌধুরীর দেখানো স্বপ্নের পথ ধরে। ১৯৮৪ সালে ম্যাট্রিক পাসের পর প্রথম কর্মজীবন শুরু করেছিলেন ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সে যোগদানের মধ্য দিয়ে। বীমা ব্যক্তিত্ব মুজিবুল হায়দার চৌধুরী পথ প্রদর্শক হলেও বীমা শিল্পের জন্য পিপলু বিশ্বাসকে তৈরি  করেছেন আরেক প্রথিতযশা ব্যক্তিত্ব এটিএম জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

পিপলু বিশ্বাস বীমাখাতে এসেছিলেন বেকারত্ব গুছিয়ে বড় হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে। সেই স্বপ্ন তার পূর্ণ হয়েছে বহু সাধনায়।

প্রায় চার দশক আগে মাধ্যমিকের গন্ডি পেরিয়ে কলেজে পা রাখা নবীন এক বীমা কর্মী থেকে দেশের স্বনামধন্য বীমা কোম্পানি ডায়মন্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন তিনি। তার সুদক্ষ নেতৃত্বে প্রতিনিয়তই সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ডায়মন্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি।

তবে এতখানি পথ পাড়ি দেয়া এতটা সহজ ছিল না পিপলু বিশ্বাসের জন্য।  বীমা খাত সম্পর্কে মানুষের নেতিবাচক ধারণা ভাঙতে প্রতিটি পদক্ষেপেই লড়াই করতে হয়েছে তাকে। বীমা সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা দূর করার এই প্রচেষ্টা শুরু করেছিলেন খোদ নিজের পরিবার থেকেই। এরপর থেকে চলছে নিরন্তর।

বীমা কোম্পানিতে কাজ শুরু করে প্রথম পলিসি হোল্ডার হিসেবে বহু  কষ্টে বাবাকে রাজি করিয়েছিলেন পিপলু বিশ্বাস। সেই স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন,” বীমায় আমার প্রথম পলিসিহোল্ডার আমার বাবা। অনেক কষ্টে সব নেতিবাচক দিককে পেছনে ঠেলে বাবাকে পলিসির জন্য রাজি করিয়েছিলাম। বাবা যেদিন প্রথম প্রিমিয়ামের পাঁচশ টাকা আমার হাতে তুলে দিয়েছিলেন, সেদিন সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছিলাম। জীবনে প্রথম যখন কমিশনের নয় হাজার টাকা পেয়েছিলাম সেদিন খুশিতে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছিলাম। চোখ দিয়ে শুধু অশ্রু গড়িয়ে পড়েছে, কোনো কথা বলতে পারিনি।”

বাবার দেয়া প্রিমিয়ামের সেই পাঁচশ টাকাই আশীর্বাদ হয়ে রইল পিপলু বিশ্বাসের জীবনে। সারা জীবনের জন্য বীমাকেই ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নিলেন তিনি।

নিজের স্বপ্নকে এগিয়ে নিতে কাজ শুরু করলেন রাজধানী ঢাকায় এসে। তবে শুধুমাত্র বীমাকে ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নিয়ে এই শহরে টিকে থাকাটাও অতটা সহজ ছিল না তার জন্য।

সামর্থ্য না থাকায় ১৯৮৭ সালের দিকে কখনো কখনো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সবুজ বৃক্ষ ছায়াও অফিস হয়ে ওঠে তাদের। এরপর দোজাহ ম্যানসনের একটি ছোট্ট অফিসে কার্যক্রম শুরু। এভাবেই হাঁটি হাঁটি পা পা করে পথচলায় সাফল্য এসেছে সফল বীমা ব্যক্তিত্ব পিপলু বিশ্বাসের।

ক্যারিয়ারের এক পর্যায়ে যোগ দেন সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্সে। সেখান থেকে প্রোগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্সে।সন্ধানী লাইফের ১১ বছরের ক্যারিয়ারে অত্যন্ত দক্ষতা ও সাফল্যের সঙ্গে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন পরিশ্রমী বীমা ব্যক্তিত্ব পিপলু বিশ্বাস। সন্ধানী লাইফের চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধান হিসেবে সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করায় সিলেট অফিসের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয় তাকে।সেখানেও সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। জনগণকে বীমা সুরক্ষায় আনতে চষে বেড়িয়েছেন সিলেটের প্রত্যন্ত অঞ্চল। দায়িত্ব পালন করেছেন সন্ধানী লাইফের ডিপিএস বিভাগের প্রধান হিসেবেও। প্রোগ্রেসিভ লাইফে ছিলেন সুজন বীমা প্রকল্পের প্রধান।

সেখান থেকে আরো বড় স্বপ্ন নিয়ে ২০১৭ সালের মার্চে চতুর্থ প্রজন্মের বীমা কোম্পানি ডায়মন্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব গ্রহণ করেন পিপলু বিশ্বাস। আজও দক্ষতা আর সফলতার সঙ্গে সেই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন তিনি।

দাম্পত্য জীবনেও অত্যন্ত সুখী ও পরিচ্ছন্ন মানুষ পিপলু বিশ্বাস। নিজের সমাজ সেবার মহান মানসিকতা থেকে কন্যাকেও গড়ে তুলেছেন দেশের প্রথিতযশা চিকিৎসক হিসেবে।

পিপলু বিশ্বাস মনে করেন, বীমা ইন্ডাস্ট্রিতে ভালো করতে হলে একজন কর্মীর দুটি গুণ অবশ্যই থাকতে হবে। প্রথমত, সৎ হতে হবে। দ্বিতীয়ত, কঠিন পরিশ্রম করতে হবে। পাশাপাশি মানুষকে শ্রদ্ধা করতে হবে, ভালবাসতে হবে।

দেশের খ্যাতিমান শিল্পদ্যোক্তা, সমাজসেবকদের নিয়ে ২০১৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করা ডায়মন্ড লাইফের রয়েছে  শক্তিশালী পরিচালনা পর্ষদ। রয়েছেন আত্মপ্রত্যয়ী, তরুণ, শিক্ষিত, নিবেদিতপ্রাণ কর্মী বাহিনী। মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পেশাগত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ চৌকস বীমা ব্যক্তিত্ব পিপলু বিশ্বাস।#