পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দেশের জীবনবীমা খাতের চতুর্থ প্রজন্মের কোম্পানি সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের বিদ্যমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)।
বীমা আইন ২০১০ এর ৯৫ (১) ধারার ক্ষমতাবলে সোনালী লাইফ পর্ষদকে আগামী ছয় মাসের জন্য বরখাস্ত করে অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম ফেরদৌস, এনডিসি, পিএসসিকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
একইসঙ্গে যত দ্রুত সম্ভব যোগ্য দেশি বা বিদেশি প্রতিষ্ঠান দিয়ে কোম্পানিটিতে পূর্ণাঙ্গ নিরীক্ষা পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) পরিচালক (আইন) মোহাঃ আব্দুল মজিদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানায় আইডিআরএ।
এর আগে একই দিনে সোনালী লাইফের পরিচালনা পর্ষদের মৌখিক শুনানি গ্রহণ করে সংস্থাটি। যার পরপরই প্রশাসক নিয়োগের চূড়ান্ত আদেশ জারি করে কর্তৃপক্ষ। রোববার (২১ এপ্রিল) এই আদেশ কার্যকর হয়েছে।
আইডিআরএ বলছে, সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের কয়েকজন পরিচালক আইন ও আর্থিক বিধি-বিধানের তোয়াক্কা না করে কোম্পানিটি পরিচালনা করছিলেন। যার ফলে বিপুল অংকের অর্থ আত্মসাৎ হয়েছে এবং বীমাকারী ও বীমা গ্রাহকদের স্বার্থ মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন হয়েছে।
বীমা খাতের এই অভিভাবক সংস্থার নিয়োগকৃত নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান হুদা ভাসি চৌধুরী অ্যান্ড কোম্পানির প্রতিবেদনে সোনালী লাইফের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তফা গোলাম কুদ্দুসসহ কয়েকজন পরিচালকের বিরুদ্ধে কোম্পানির তহবিল থেকে অবৈধভাবে ১৮৭ কোটি টাকা আত্মসাতের তথ্য প্রমাণ উঠে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে অর্থ গ্রহণ করলেও দুর্নীতি বা অনিয়মের মাধ্যমে অবৈধভাবে আত্মসাতের অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন কোম্পানিটির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তফা গোলাম কুদ্দুস।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক সভাপতি মোস্তফা গোলাম কুদ্দুস দেশের বৃহত্তম সোয়েটার প্রস্তুত ও রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান ড্রাগন গ্রুপেরও চেয়ারম্যান। দেশের বীমাখাতেরও অত্যন্ত অভিজ্ঞ ও সফল একজন উদ্যোক্তা তিনি। ১৯৮৮ সালে তার প্রতিপ্রতিষ্ঠিত রূপালী ইন্স্যুরেন্স ব্যবসা সফল হওয়ার পর ২০১৩ সালে সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। এটিও দেশের বীমাখাতে ডিজিটালাইজেশনের আইকন হয়ে ওঠে। আস্থা অর্জন করে বিপুল সংখ্যক গ্রাহকের। বর্তমানে রূপালী ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন মোস্তফা গোলাম কুদ্দুস।
তিনি দাবি করেছেন, সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত তার মালিকানাধীন ভবনটির ভাড়া এবং কোম্পানিকে দেয়া ঋণ বাবদ পাওনা থেকেই বিভিন্নখাতে তিনি প্রায় দেড়শো কোটির মতো টাকা গ্রহণ করেছেন।
তার মালিকানাধীন ড্রাগন সোয়েটার, ড্রাগন আইটি ও ইম্পেরিয়াল কনভেনশন সেন্টারকেও যেসব টাকা দেয়া হয়েছে তা যথাযথ সেবা ও পণ্য গ্রহণের বিনিময়ে সোনালী লাইফ পরিশোধ করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে নিরীক্ষা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইডিআরএ বলছে, তার এ দাবির সাথে কোম্পানির বুক অব অ্যাকাউন্টস, লেজার, সিস্টেম জেনারেটেড ভাউচার, ব্যাংক অ্যাডভাইস, চেক, ইত্যাদি ডকুমেন্টসের মিল বা সামঞ্জস্য নেই।#











