বীমা গ্রাহক তৈরি ও প্রিমিয়াম সংগ্রহের বিপরীতে নিজেদের বেতন-ভাতা বা কমিশনের টাকা যথা সময়ে না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাসোসিয়েট, ইউনিট ম্যানেজার ও ব্র্যাঞ্চ ম্যানেজাররা।
তারা বলছেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই কোম্পানিটি মাঠ পর্যায়ের এসব কর্মকর্তাদের যথাসময়ে বেতন-ভাতা বা কমিশনের টাকা দিয়ে আসছে। সাধারণত প্রতিমাসের ৭ তারিখের মধ্যেই তারা এসব বেতন ভাতা পেয়ে থাকেন। কিন্তু কোম্পানিটিতে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের নিয়োগকৃত প্রশাসক দায়িত্ব গ্রহণের পর বিগত এপ্রিল মাসের কমিশন ও ভাতা তারা এখনও পাননি।
যে কারণে তারা দুশ্চিন্তা এবং শঙ্কার মধ্যে পড়েছেন।
কোম্পানিটিতে এমন অবস্থা বিরাজমান থাকলে
মাঠ পর্যায়ে কর্মরত কর্মী এবং সংগঠকরা অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে মনোবল হারাবেন। যা কোম্পানিটিকে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক ব্যর্থতার দিকে নিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা ব্র্যাঞ্চ ম্যানেজারদের। এই আশঙ্কা থেকেই রোববার মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন পদের দেড়শতাধিক কর্মকর্তা সোনালী লাইফের প্রধান কার্যালয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন প্রশাসকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপের জন্য।
সেখানে কথা হয় সোনালী লাইফের ব্র্যাঞ্চ ম্যানেজার রবিউল ইসলামের সঙ্গে।
তিনি বলছিলেন, প্রায় চার বছর ধরে আমি এখানে কাজ করি। আমার অধীনে প্রায় ৭০০ ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাসোসিয়েট রয়েছে। আমরা কমিশন, মার্কেটিং খরচ, ব্র্যাঞ্চ চালানোর খরচ পাই। আমাদের দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলতে যেতে হয়। আমারা যে কমিশন পাই তার প্রায় ৬০ শতাংশ খরচ হয় প্রতিষ্ঠানের কাজ করতে । গত মাসে আমি তিন লাখ টাকা কমিশন পেয়েছিমাল । কিন্তু আজকে ১২ তারিখ চলে যাচ্ছে এখনও বেতন-ভাতা বা কমিশন বাবদ টাকা পাচ্ছি না। আমার অধীনস্থ ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাসোসিয়েটরাও কোন টাকা পাচ্ছে না।
তিনি বলেন, এর আগে প্রতি মাসের ৭ তারিখের মধ্যেই আমাদের ব্যাংক হিসাবে টাকা চলে যেত ।
তিনি বলেন, সরকার প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে ভালোর জন্য, কিন্তু এখন দেখা যায় কমিশন পাচ্ছি না। আমরা চাই দ্রুত আমাদের কমিশন দিয়ে দেয়া হোক। আমরা এ কমিশনের অর্থ দিয়েই পরিবার চালাই।
চট্টগ্রামের ব্র্যাঞ্চ ম্যানেজার আব্দুল কুদ্দুস লিটন বলেন, একেতো আমরা কমিশন পাচ্ছি না, তার উপর আমাদের গ্রাহকদের বীমা দাবিও কয়েকদিন ধরে যথাসময়ে নিষ্পত্তি হচ্ছে না। এতে গ্রাহকের আস্থাও হারাচ্ছি। সোনালী লাইফের ইতিহাসে এরকম ঘটনা কখনোই ঘটেনি।
আরেক ব্র্যাঞ্চ ম্যানেজার সায়মুন বলেন, যথা সময়ে কমিশন না পাওয়ায় আমার দলের ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাসোসিয়েটরা পলিসি ও প্রিমিয়াম সংগ্রহের উৎসাহ হারাচ্ছে। কয়েকদিন ধরে অনেকেই নতুন প্রিমিয়াম আনছে না।
কোম্পানি সূত্র বলছে, সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সে ২৬ হাজার ৯০৯ জন সক্রিয় ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাসোসিয়েট, ১৩০০ ব্র্যাঞ্চ ম্যানেজার, ৭০০০ ইউনিট ম্যানেজার রয়েছে। মাঠ পর্যায়ের এসব কর্মকর্তাদের এপ্রিল মাসের মাসিক কমিশন এবং ভাতা বাবদ প্রায় সাড়ে ছয় কোটি টাকা এই মুহূর্তে পাওনা রয়েছে।
বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের নীতিমালা অনুযায়ীই এসব কমিশন ও ভাতা হিসাব করা হয়েছে।
যথাসময়ে কমিশন বা ভাতা কেন দেয়া হচ্ছে না জানতে চাইলে প্রশাসক অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম ফেরদৌস, এনডিসি, পিএসসি বলেন, একটি বিশেষ পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় কোম্পানিটিতে প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এখন সামগ্রিকভাবে কোম্পানিটির কার্যপদ্ধতি বুঝে নিতে সময়ের প্রয়োজন। যে কারণে কমিশন বা ভাতা দিতে সময় লাগছে। কারো শঙ্কিত হওয়ার কোন কারণ নেই। নিয়ন্ত্রক সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী প্রত্যেকেই তাদের প্রাপ্য পাবেন। কোম্পানির প্রাত্যহিক কার্যক্রম চালু রয়েছে। আশা করছি শিগগিরই বিষয়টি সমাধান করা সম্ভব হবে।#











