New York
মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
Breaking
ব্র্যাক ব্যাংকের ইস্যু করা দেশের প্রথম সোশ্যাল বন্ডে মেটলাইফের ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ জীবন বীমা কর্পোরেশনের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিয়াউল হক সোনালী লাইফের ২০২৬ সালের প্রথম মাসিক ব্যবসা উন্নয়ন সভা নন-লাইফ বীমায় শূন্য কমিশন বাস্তবায়নে মনিটরিং কমিটি গঠন মেটলাইফের ‘এজেন্সি অব দ্য ইয়ার ২০২৫’ পেল সুমন এজেন্সি নন-লাইফ বীমায় কমিশনের নামে আর্থিক সুবিধা নিষিদ্ধ, আইন ভাঙলে শাস্তি: আইডিআরএ তরুণদের নতুন ভরসা বীমা পেশা সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের দ্বাদশ বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত শক্তিশালী লাইফ ফান্ডে মজবুত ভিত্তি গার্ডিয়ান লাইফের বেঙ্গল ইসলামি লাইফ ও ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মধ্যে কর্পোরেট চুক্তি
আইডিআরএ’র পর্যালোচনা

সাধারণ বীমাখাতের ৪১ ভাগ কোম্পানিতেই অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয়

  • প্রকাশের সময় : ১ বছর ৮ মাস ২০ ঘন্টা ৫০ মি. আগে, ০৪:১৯:৩২ পি.এম, শুক্র, ১৭ মে ২০২৪
  • 648
ক্যাপশন আইডিআরএ'র লোগো
নিজস্ব প্রতিবেদক:

দেশের সাধারণ বীমা খাতের (নন লাইফ) ৪১.৩০ শতাংশ কোম্পানিই আইন লঙ্ঘন করে ব্যবস্থাপনা খাতে অতিরিক্ত ব্যয় করছে। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) এক পর্যালোচনা প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

আইডিআরএ বলছে, এসব অতিরিক্ত অর্থ সবচেয়ে বেশি ব্যয় হয় উন্নয়ন কর্মকর্তাদের বেতন ও অন্যান্য ভাতাদি প্রদানে যা মোট ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের ৮০ শতাংশ।

পরিদর্শন ও তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করে কর্তৃপক্ষ বলছে, কোম্পানির আকারের তুলনায় অত্যধিক জনবলের কারণেই ব্যয় বেশি হয়। পারিবারিক সদস্য, আত্মীয়দের জনবল হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। যারা প্রকৃতপক্ষে কর্মরত থাকেন না। চাকরি না করেও তারা বেতন-ভাতাদি গ্রহণ করেন।

গত ১৫ মে নন-লাইফ বীমাকারীসমূহের “ব্যবস্থাপনা ব্যয়” নির্ধারিত সীমার মধ্যে রাখার বিষয়ে মত বিনিময় সভার আয়োজন করে আইডিআরএ। সভায় নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের বর্তমান অবস্থা উপস্থাপন করেন উপ-পরিচালক মো: সোলায়মান। পরে আইডিআরএ’র মুখপাত্র এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সভার বিস্তারিত তথ্য গণমাধ্যমকে পাঠান। সভায় উপস্থাপিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২২ সালে ৪১.৩০ শতাংশ নন-লাইফ বীমা কোম্পানিসমূহের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয় হয়েছে। অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের খাতওয়ারী চিত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, অধিকাংশ কোম্পানির ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের সর্বোচ্চ ব্যয় হয় উন্নয়ন কর্মকর্তাদের বেতন ও অন্যান্য ভাতাদি প্রদানে যা মোট ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের ৮০% শতাংশ ।

 

 

সভায় সভাপতিত্ব করেন বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ার‌ম্যান মোহাম্মদ জয়নুল বারী ও সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট শেখ কবির হোসেন ।

সভায় বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সকল সদস্য, নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশনের মনোনীত প্রতিনিধিগণ, সকল নন-লাইফ বীমাকারীর চেয়ারম্যান/পরিচালকগণ উপস্থিত ছিলেন ।

 

সভার উন্মুক্ত আলোচনায় উল্লেখযোগ্য কিছু বিষয় তুলে ধরা হয়। বিভিন্ন কোম্পানির চেয়ারম্যান, প্রতিনিধিগণ এ বিষয়ে বিভিন্ন প্রতিন্ধকতা এবং তা উত্তরণের জন্য পরামর্শ প্রদান করেন। কোম্পানির প্রতিনিধিগণ জানান যে, কোম্পানিগুলো নিজেদের মধ্যে এক হীন প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। তারা বীমা গ্রাহকগণকে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে কমিশন/প্রিমিয়াম প্রদানে ছাড় দিয়ে থাকেন। যা আর্থিক বিবরণীতে “ব্যবস্থাপনা ব্যয়” হিসেবে প্রতিফলিত হয়। এ ধারা বন্ধ হওয়া উচিত মর্মে সকল বক্তাগণ সভায় অভিমত পোষণ করে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের নিয়মতান্ত্রিক হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

 

সম্মানিত অতিথি শেখ কবির হোসেন বলেন, কোম্পানিসমূহের সম্পূর্ণ অটোমেশনে অনেকাংশে এই সমস্যার সমাধান হতে পারে। এছাড়াও ব্যাপক প্রচার প্রচারণা দ্বারা জনসচেতনা বৃদ্ধি করা উচিত বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।

 

 

সভার সভাপতি বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সমাপনী বক্তব্যে বলেন , বীমা শিল্পের উন্নয়ন ও প্রসারে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ সর্বদা চেষ্টা করছে । প্রোডাক্ট ডাইভারসিটি, প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্টের জন্য বিভিন্ন সভা, সেমিনারের আয়োজন করা হয় এবং স্টার্টআপ ইন্স্যুরটেকের সাথে ডিজিটালভাবে নতুন নতুন বীমা প্রোডাক্টের ধারনা নেয়া হয়। এছাড়াও কৃষি বীমা, মৎস্য বীমা, গৃহায়ন বীমা, ব্যাংকাস্যুরেন্স চালু করা হয়েছে । কোর সফটওয়্যার এর ক্লাউড এর মাধ্যমে কোম্পানিসমূহকে অটোমেশনে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং সম্পূর্ণভাবে অটোমেশনের আওতায় আনার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন ,বীমাকারীর দায়িত্ব রিসার্চ ডেভেলপমেন্ট এর জন্য ব্যয়, ইনভেস্টমেন্ট করা, নতুন নতুন পলিসি উদ্ভাবন করা। মূলত বীমা শিল্পের সার্বিক উন্নয়নে বীমাকারীর ভূমিকাই মূখ্য। বীমাকারীর আইনের সঠিক চর্চা এবং ইতিবাচক মানসিকতার দ্বারা বিভিন্ন সম্যস্যার সমাধান করা সম্ভব । সেক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সকল প্রকার সহযোগিতা দেয়া হবে বলে তিনি উপস্থিত সকলকে আশ্বস্ত করেন।

ট্যাগs: