অবলিখনজনিত অস্পষ্টতার বিড়ম্বনা এড়াতে বীমা কোম্পানিগুলোর জনবলকে আরো প্রশিক্ষিত করা উচিত বলে মনে করেন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স সার্ভেয়ার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি কেএনএম খোরশেদ আলম।
সম্প্রতি বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান ড. এম আসলাম আলমের সঙ্গে মতবিনিময়ে অংশ নিয়ে তিনি এই অভিমত ব্যক্ত করেন।
সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্যকালে ইন্স্যুরেন্স সার্ভেয়ারদের
যথাযথ মূল্যায়নের দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স সার্ভেয়ার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি
কেএনএম খোরশেদ আলম বলেন, সার্ভেয়াররা বীমাখাতের গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন। তাদের সুবিধা অসুবিধা বাদ দিয়ে এ খাতকে এগিয়ে নেয়া সম্ভব নয়। এ সময় অবলিখনজনিত অস্পষ্টতার বিড়ম্বনা এড়াতে বীমা কোম্পানিগুলোর জনবলকে আরো প্রশিক্ষিত করার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন,
বীমা কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিরা অনেক সময়
সঠিকভাবে প্রশিক্ষিত না হওয়ার কারণে পলিসির দলিল তৈরিতে অবলিখনজনিত অস্পষ্টতা বা ত্রুটি থাকে। এতে সঠিকভাবে গ্রাহকের ক্ষতি নিরূপণে আমরা বিড়ম্বনায় পড়ি। এতে গ্রাহক যেমন যথাযথ ক্ষতিপূরণ পান না তেমনি বীমা খাত তথা সার্ভেয়ারদের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়।
আইডিআরএ’র সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ওই সভায়
বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স সার্ভেয়ার্স এসোসিয়েশন , বীমা এজেন্ট প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ইন্স্যুরটেক প্রতিষ্ঠান, বীমা কল্যাণ সোসাইটি বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স একাডেমির প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
এ সময় সরকারের অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা জাতীয় বীমা নীতি
হালনাগাদ করে শিগগিরই তা বাস্তবায়নের ইঙ্গিত দিয়েছেন বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান ড. এম আসলাম আলম।
যদিও ২০২৩ সালে জাতীয় বীমা নীতি ২০১৪ অধিকতর পরিমার্জন, সংশোধন ও পরিবর্ধন করে নীতিমালার খসড়া অনুমোদনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠায় আইডিআরএ। তবে এখন পর্যন্ত সংশোধিত ওই নীতিমালা আলোর মুখ দেখেনি। এরই মধ্যে নীতিমালাটি হাল নাগাদের ঘোষণা দিলেন আইডিআরএ চেয়ারম্যান।
সভায়, বীমা খাতের মানব সম্পদ উন্নয়ন, আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ হ্রাস, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও বীমা সেক্টরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে মানসম্মত প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই বলে অভিমত ব্যক্ত করেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে কাজী মোঃ মোরতোজা আলী, ডিরেক্টর জেনারেল, বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট ফর প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট; এস. এম. ইব্রাহিম হোসাইন, পরিচালক, বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স একাডেমি; মুজতবা ফিদাউল হক,ব্যবস্থাপনা পরিচালক,আদর্শ পানি সেবা লিমিটেড ও লায়ন জাহাঙ্গীর আলম, প্রেসিডেন্ট, বীমা কল্যাণ সোসাইটি বক্তব্য রাখেন।
এ সময় নির্দিষ্ট সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের জন্য সুযোগ-সুবিধা সীমাবদ্ধ না রেখে সকল প্রতিষ্ঠানের জন্য তা উন্মুক্ত করে বীমা নীতিমালার সফল বাস্তবায়নের আহবান জানান তারা।
তাঁরা বলেন , ইতোমধ্যে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গৃহীত উদ্যোগসমূহ যেমন ইন্স্যুরটেক, ব্যাংকাসুরেন্স ইত্যাদি বীমা খাতের উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সভাপতির বক্তব্যে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ড. এম আসলাম আলম।
আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালনকারী ছাত্র-জনতার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে দেশের বীমা খাত। বীমা খাতে স্বছতা ও জবাবদিহিতা রক্ষা এবং এ খাতের উন্নয়নে সংশ্লিষ্টদের
কার্যক্রমের উপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। প্রান্তিকভাবে অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে কাজ করতে, গ্রাহকের সুরক্ষা প্রদানে ,দক্ষ বীমা কর্মী তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে এসব প্রতিষ্ঠানের পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার করেন আইডিআরএ চেয়ারম্যান।











