অসাধারণ বাণিজ্যিক সাফল্যের জন্য ‘বাংলাদেশ সি-স্যুট অ্যাওয়ার্ডস’ অর্জন করেছেন দেশের বীমা খাতের চতুর্থ প্রজন্মের কোম্পানি চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এস এম জিয়াউল হক। বর্ষসেরা প্রধান নির্বাহী ক্যাটাগরিতে (যাদের বার্ষিক ব্যবসায়িক আয় একশ’ কোটির মধ্যে ছিল ) তাকে এই পদক দেয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) রাজধানীর হোটেল লা মেরিডিয়ানে বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের আয়োজনে তৃতীয়বারের মতো বাংলাদেশ সি-স্যুট অ্যাওয়ার্ডস ২০২৪ প্রদান করা হয়।
এবার ২৪টি ক্যাটাগরিতে দেশের ২২ জন শীর্ষ বাণিজ্যিক ব্যক্তিত্বকে এ অ্যাওয়ার্ড দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে তিন শতাধিক বাণিজ্যিক ব্যক্তিত্ব , বিশেষজ্ঞ ও পেশাজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।
জিয়াউল হক। বাংলাদেশের বীমা খাতের এক তরুণ উদ্যোগী, গতিশীল পেশাদারিত্বের অগ্রদূত। অপারেশনাল দক্ষতা ও নৈপুণ্যতার মধ্য দিয়ে বিভিন্ন বিতরণ চ্যানেলের মাধ্যমে বীমা ব্যবসার সম্প্রসারণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন তিনি। পাশাপাশি তিনি ক্ষুদ্র ও গ্রুপ বীমাসহ বীমাশিল্পের বিভিন্ন সেক্টরে বীমার ব্যাপক প্রসার ঘটিয়েছেন।
জনাব জিয়াউল হক, এআইজি (আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপ)-এর একটি আর্থিক অঙ্গ সংগঠন আমেরিকান লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে (অ্যালিকো) একজন ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি হিসেবে ২০০১ সালে তাঁর পেশাদারিত্ব কর্মজীবন শুরু করেন, যা বর্তমানে মেটলাইফ নামে পরিচিত। পরবর্তীতে তিনি ২০১৫ সালে প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীতে জেনারেল ম্যানেজার (অপারেশনস) হিসেবে যোগদান করেন এবং সেখানে তিনি গ্রুপবীমা, দাবী, কাষ্টমার সার্ভিস ও আর্থিক পরিসেবা বিতরণ বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
ওই প্রতিষ্ঠানে তিনি ইনোভেশন ও বিকল্প বিতরণ চ্যানেল নামক বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিজ পেশাদারিত্বের সুখ্যাতি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন।
বাংলাদেশের বীমাশিল্পে তিনি একক-বীমার ক্ষেত্রে জীবনের জন্য চাহিদা-কেন্দ্রিক পণ্যের বিকাশে অবদান রেখেছেন এবং সরাসরি বিপণনের পাশাপাশি বিকল্প বিতরণ
চ্যানেলের মাধ্যমে গ্রুপবীমা মার্কেট সম্পর্কে উদ্ভাবনী ধারণা তৈরি করেছেন এবং তাদের বেশিরভাগই পার্টনারশিপ মডেল,
ব্যাংকিং এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে চালু রয়েছে। পরবর্তীতে তিনি ২০১৯ সালে চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে অতিরিক্ত
ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে যোগদান করে বর্তমানে কোম্পানীর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন।
শিক্ষা জীবনে জনাব জিয়াউল হক প্রাচ্যের অক্সফোর্ড নামে খ্যাত ঢাকা বিশ্বাবিদ্যালয় থেকে প্রথম শ্রেণীতে দ্বিতীয় স্থান অর্জনের মাধ্যমে লোকপ্রশাসন বিভাগে বি.এস.এস (সম্মান) এবং এম.এস.এস ডিগ্রী অর্জন করেন। তিনি মানব সম্পদ বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী এবং ফিন্যান্স বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ ডিগ্রী অর্জন করেন। বীমা পেশায় উচ্চতর ডিগ্রী হিসেবে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লোমা (এলওএমএ) ইনস্টিটিউট থেকে এফএলএমআই এবং রি-ইন্স্যুরেন্স বিষয়ে এআরএ ডিগ্রী অর্জন করেন।
এছাড়াও তিনি জাপান, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্ডিয়া এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণে অংশ
নিয়েছেন। বীমা পেশায় প্রচুর কর্মব্যস্ততার মাঝেও জনাব জিয়াউল হক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিথি শিক্ষক হিসেবে পাঠদান করছেন।
দক্ষিণ এশিয়ার ইন্স্যুরেন্স সেক্টরে অসামান্য নেতৃত্বের অবদানের জন্য জনাব জিয়াউল হককে ঝঅচঝ থেকে “সাউথ এশিয়ান
বিজনেস এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০২২”-এ পুরস্কৃত করা হয়েছে। এছাড়াও তিনি লিডার্স ফোরাম বাংলাদেশ থেকে “খঋই” লিডারশিপ এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০২১”-এ ভূষিত হয়েছেন। একজন পেশাদার মোটিভেটর হিসেবে সংবাদপত্র ও জার্নালে নিয়মিত লেখনি এবং বিভিন্ন চ্যানেল ও আন্তর্জাতিক ওয়েববিনার-এর টক-শোতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের বীমা খাতের উন্নয়নে অভাবনীয় অবদান রেখে চলেছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটের একজন নিবন্ধিত গ্র্যাজুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন এবং লিডারস ফোরাম বাংলাদেশ ((খঋই)-এর একজন আজীবন সদস্য। তিনি ইগঈঈও (বাংলাদেশ মালয়েশিয়া চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি)-এর স্ট্যান্ডডিং কমিটির একজন সদস্যও। তাছাড়া তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের সাথেও সম্পৃক্ত।












