New York
মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
Breaking
ব্র্যাক ব্যাংকের ইস্যু করা দেশের প্রথম সোশ্যাল বন্ডে মেটলাইফের ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ জীবন বীমা কর্পোরেশনের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিয়াউল হক সোনালী লাইফের ২০২৬ সালের প্রথম মাসিক ব্যবসা উন্নয়ন সভা নন-লাইফ বীমায় শূন্য কমিশন বাস্তবায়নে মনিটরিং কমিটি গঠন মেটলাইফের ‘এজেন্সি অব দ্য ইয়ার ২০২৫’ পেল সুমন এজেন্সি নন-লাইফ বীমায় কমিশনের নামে আর্থিক সুবিধা নিষিদ্ধ, আইন ভাঙলে শাস্তি: আইডিআরএ তরুণদের নতুন ভরসা বীমা পেশা সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের দ্বাদশ বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত শক্তিশালী লাইফ ফান্ডে মজবুত ভিত্তি গার্ডিয়ান লাইফের বেঙ্গল ইসলামি লাইফ ও ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মধ্যে কর্পোরেট চুক্তি

ব্যাংক অ্যাস্যুরেন্স ও বাংলাদেশ

  • প্রকাশের সময় : ২ বছর ১১ মাস ৬ দিন ১৩ ঘন্টা ৪ মি. আগে, ০৬:২৮:২৬ পি.এম, শুক্র, ১০ ফেব্রু ২০২৩
  • 16081
ডঃ নূরুর রহমান:

ব্যাংক অ্যাস্যুরেন্স হচ্ছে ব্যাংক এবং বীমা পরিষেবার স্বমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ ব্যবসায়িক মডেল। গত পাঁচ দশকে অস্ট্রিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, পর্তুগাল, স্পেন এবং যুক্তরাজ্যের ব্যাংকগুলি এই ব্যবসায়িক মডেল গ্রহণ করে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। এই দেশগুলি সম্মিলিতভাবে বিশ্বব্যাপী ব্যাংক অ্যাস্যুরেন্স মার্কেট শেয়ারের ৪০ থেকে ৫০ ভাগের মালিক।

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকায়  ব্যাংক অ্যাস্যুরেন্স জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

এই ব্যবসা কাঠামোর অধীনে কোন ব্যাংক সাধারণত দুই ধরনের নিশ্চয়তা প্রদান করতে পারে। এইগুলো হচ্ছে জীবন বীমা এবং সাধারণ বীমা। প্রথম ভাগে রয়েছে পুরো জীবন, মেয়াদী জীবন, জীবনযাত্রার সুবিধা এবং অন্যান্য বেশ কিছু বীমা পরিকল্পনা। আর্থিক, সামুদ্রিক, সম্পত্তি, ভ্রমণ, এবং অন্যান্য বিভিন্ন বীমা সাধারণ বীমার অন্তর্ভুক্ত।

ব্যাংক অ্যাস্যুরেন্সের ধারণা বাংলাদেশে তুলনামূলকভাবে নতুন। গত ২০২২ সালের মে মাসে বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক দেশীয় ব্যাঙ্কের মাধ্যমে এই সেবা প্রদানের নির্দেশিকা চূড়ান্ত করে। এটি বর্তমান সরকারের একটি চমৎকার উদ্যোগ যা স্থবির বীমা শিল্পের জন্য ব্যবসা বৃদ্ধির নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং এই অংশীদারিত্ব থেকে ব্যাঙ্কের রাজস্ব বাড়াতে সক্ষম হবে।

বাংলাদেশে ব্যাঙ্কাসুরেন্স চালু করার ব্যাপারে অন্যতম প্রধান সুবিধা হচ্ছে এতে গ্রাহকের স্বাচ্ছন্দ্য বাড়াবে। গ্রাহকরা তাদের নিয়মিত ব্যাঙ্কিং কার্যক্রম পরিচালনা করার সময় যেকোনো বীমা পণ্য ক্রয় করতে পারবেন বা খুব সহজেই এ ব্যাপারে যেকোনো তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন। নতুন করে তাঁদের আর কোন বীমা কোম্পানিতে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না। এটি একজন গ্রাহকের সময় বাঁচাবে এবং বীমা কেনার প্রক্রিয়াটিকে সহজ এবং দ্রুততর করে তুলবে। উপরন্তু, এই পদ্ধতি একটি ব্যাঙ্কের সব গ্রাহককে বীমা পণ্য বিক্রয় করার সুযোগ দেবে যাদের একটি অংশের হয়তো বীমা সম্পর্কে কুসংস্কার রয়েছে অথবা বীমা পরিষেবাগুলিতে বর্তমানে যাদের অংশগ্রহণের আদোও কোন সুযোগ নেই।

 

ব্যাঙ্কাসুরেন্সের মাধ্যমে বাংলাদেশে আর্থিক স্বাক্ষরতা বৃদ্ধির বিরাট সম্ভাবনা রয়েছে। ব্যাঙ্কগুলি তাদের গ্রাহকদের বীমা পণ্য এবং বীমা সুবিধাগুলি সম্পর্কে শিক্ষিত করতে পারে এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে বীমা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে সরকারকে সহায়তা করতে পারে। শিল্প ও প্রশাসনের এই সহযোগিতা বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ প্রতিবেশী-দেশগুলোর তুলনায় এদেশে বীমা স্বাক্ষরতা অনেক কম।

তবে সুবিধার পাশাপাশি বাংলাদেশে ব্যাঙ্কাসুরেন্স চালু করার ক্ষেত্রে কিছু জটিলতাও রয়েছে। প্রধান চ্যালেঞ্জগুলির মধ্যে একটি হচ্ছে বীমা শিল্পে নিয়ন্ত্রণ ও তদারকির অভাব। যার ফলে দেখা যাচ্ছে ভুল বা ত্রুটি-পূর্ণ বীমা পণ্য বিক্রি এবং ভোক্তা সুরক্ষার চরম অভাব। বীমা পণ্যগুলির শর্তাবলী সাধারণত জটিল, আর তাই অনেক গ্রাহকই তাদের কেনা বীমা পণ্যগুলির শর্তাবলী সম্পূর্ণরূপে বুঝতে পারেন না যা নিয়মিত-ভাবেই অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রয়োজনীয় সমস্যা তৈরি করছে। সব মিলিয়ে বীমা সম্পর্কে এই দেশের একটি বড় অংশে নেতিবাচক ধারনা তৈরি হয়েছে যা মোকাবেলায় সরকার, ব্যাঙ্ক, এবং বীমা-শিল্পের সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

ব্যাঙ্কাসুরেন্স ব্যবসায়িক মডেলের সফল অভিযোজনের জন্য স্থানীয় ব্যাঙ্ক এবং বীমা প্রদানকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ হল তাদের মানসিকতার পরিবর্তন। তাদের অবশ্যই উপাত্ত এবং আধুনিক প্রযুক্তি চালিত পদ্ধতির অনুসরণ করতে হবে এবং বর্তমানের ঐতিহ্যগত ব্যবসায়িক রীতিগুলিকে দূরে সরাতে হবে। আধুনিক পদ্ধতি ব্যাবহার করে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের মাধ্যমে নতুন উপাত্ত তৈরির ব্যবস্থা করতে হবে এবং বিভিন্ন সামাজিক মিডিয়া বা নিউজ চ্যানেল ব্যবহার করে জরিপ বা ভোটের মাধ্যমে জনমত সংগ্রহের জন্য সক্রিয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এই তথ্য ব্যাঙ্কাসুরেন্সের ব্যাপারে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক প্রস্তুতি পরীক্ষা করতে প্রাথমিকভাবে ব্যাবহার করা যাবে, যা পরবর্তীতে উন্নত বীমা নীতি এবং গ্রাহক-বান্ধব প্রিমিয়াম মূল্য নির্ধারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার নিশ্চিত করে নতুন ব্যবসার সুযোগের সম্ভাবনা তৈরি করতে ব্যাঙ্কগুলিকে বিদ্যমান গ্রাহক ডাটাবেস নিয়মিত ব্যবহার করা উচিত। সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ গ্রাহকদের সনাক্ত করতে এবং বীমা কোম্পানির এজেন্ট এবং প্রতিনিধিদের কার্যক্ষমতা বাড়ানোর জন্য উন্নত প্রযুক্তি-ভিত্তিক সমাধানগুলি ব্যবহার করতে হবে। একটি বীমা প্রতিষ্ঠান নুতন গ্রাহক সনাক্তনের জন্য কার্যকরী তথ্য পেতে একটি ব্যাঙ্কের সাথে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে পারে। নতুন উপাত্ত থেকে সম্ভাব্য গ্রাহকের আর্থিক অবস্থা বিশ্লেষণ করে বীমা প্রতিষ্ঠান”সুনির্দিষ্ট গ্রাহকের জন্য সুনির্দিষ্ট প্রিমিয়াম” বা “পারসনালাইজড” মূল্যতালিকা তৈরি করতে করতে পারে, যা বীমা পণ্যকে নতুন গ্রাহকের জন্য আকর্ষণীয় করে তুলতে পারবে।

ব্যাঙ্কাসুরেন্স দেশের আর্থিক খাতকে এগিয়ে নেবার জন্য একটি বেশ সম্ভাবনাময় উদ্যোগ। যাইহোক, প্রশাসনকে নিশ্চিত করতে হবে যে দেশের অর্থনৈতিক বাজার যাতে সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়, গ্রাহকদের পর্যাপ্ত তথ্য প্রদান করা হয়, এবং তাঁদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়। সঠিক ও আন্তরিকতার সঙ্গে ব্যাঙ্কাসুরেন্সের বাস্তবায়ন

দেশের আর্থিক স্বাক্ষরতা এবং বীমা-সুরক্ষিত জনসংখ্যা বাড়াতে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

ডঃ নুরুর রহমান এআই-ভিত্তিক ইনসুরটেক স্টার্টআপ “সমীকরণ” এর প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।

“সমীকরণ” বাংলাদেশের বীমা, ব্যাঙ্ক এবং অন্যান্য শিল্পকে জন্য চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার পথ তৈরিতে সাহায্য করছে।

ট্যাগs: