কুমিল্লার মিয়াবাজারে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বাংলাদেশের শিল্প ও আর্থিক খাতের অন্যতম বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব মোস্তফা গোলাম কুদ্দুছ । সেখানে তার জানাজায় শোকার্ত মানুষের ঢল নামে। যারা অশ্রুসিক্ত নয়নে তাকে চির বিদায় জানান।
শনিবার সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ১৯৪৯ সালের ৪ মার্চ কুমিল্লায় জন্মগ্রহণকারী মোস্তফা গোলাম কুদ্দুস দেশের অর্থনৈতিক নীতি প্রণয়ন এবং শিল্প উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন।
শনিবার ঢাকার গুলশানে তার প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মাগরিবের নামাজের পর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের লতিফুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয় ও মিয়াবাজার ডিগ্রি কলেজ মাঠে তার দ্বিতীয় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। উভয় প্রতিষ্ঠানই মুস্তাফা গোলাম কুদ্দুছ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
জানাজার মাঠ ও আশপাশের এলাকা শোকার্ত মানুষের ভিড়ে পূর্ণ ছিল। রাজনৈতিক, সামাজিক এবং ব্যবসায়িক খাতের নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় অধিবাসীরা জানাজায় অংশগ্রহণ করেন।
জানাজার সময় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, সাবেক বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী, বিএনপি নেতা কাজী মনিরুজ্জামান এবং এলডিপি মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ।
ড. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের মোস্তফা গোলাম কুদ্দুছকে আল্লাহভীরু, সদয় এবং উদার ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্মরণ করেন।
সাবেক সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী আবেগঘন শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান করেন। তিনি কুদ্দুসকে তার একজন প্রিয় বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, রাজনৈতিক নিপীড়নের কারণে দীর্ঘদিন এলাকায় অনুপস্থিত থাকার জন্য তিনি আফসোস করেছেন।
তিনি সরকারের সমালোচনা করে বলেন, “দেশ এখন ফ্যাসিবাদমুক্ত হলেও এমন একজন ব্যক্তিত্ব, যিনি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছেন, তার চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। এর জন্য বর্তমান সরকারকে জবাবদিহি করতে হবে।”
জানাজায় উপস্থিত মানুষও সরকারের এই উদাসীনতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং জনাব গোলাম কুদ্দুছের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন। তারা তাকে এলাকার অভিভাবক হিসেবে দেখতেন।
ড. রেদোয়ান আহমেদ এবং কাজী মনিরুজ্জামান তাদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তারা কুদ্দুছের শিল্প উন্নয়নে বিশেষত গার্মেন্টস শিল্পে শিশুশ্রম দূরীকরণে তার ভূমিকা এবং জনসেবা কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করেন।
জানাজায় স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং পুলিশ সুপার উপস্থিত ছিলেন।
মোস্তফা গোলাম কুদ্দুছ, যিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাও ছিলেন, তাকে মিয়াবাজার ডিগ্রি কলেজের কাছে তার পারিবারিক কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়।












