Paris
সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
Breaking
ব্র্যাক ব্যাংকের ইস্যু করা দেশের প্রথম সোশ্যাল বন্ডে মেটলাইফের ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ জীবন বীমা কর্পোরেশনের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিয়াউল হক সোনালী লাইফের ২০২৬ সালের প্রথম মাসিক ব্যবসা উন্নয়ন সভা নন-লাইফ বীমায় শূন্য কমিশন বাস্তবায়নে মনিটরিং কমিটি গঠন মেটলাইফের ‘এজেন্সি অব দ্য ইয়ার ২০২৫’ পেল সুমন এজেন্সি নন-লাইফ বীমায় কমিশনের নামে আর্থিক সুবিধা নিষিদ্ধ, আইন ভাঙলে শাস্তি: আইডিআরএ তরুণদের নতুন ভরসা বীমা পেশা সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের দ্বাদশ বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত শক্তিশালী লাইফ ফান্ডে মজবুত ভিত্তি গার্ডিয়ান লাইফের বেঙ্গল ইসলামি লাইফ ও ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মধ্যে কর্পোরেট চুক্তি

উচ্চ ঝুঁকিতে দেশের ৩২ বীমা কোম্পানি

  • প্রকাশের সময় : ৬ মাস ১ সপ্তাহ ৬ দিন ১৮ ঘন্টা ৫৭ মি. আগে, ০৭:২১:১৩ পি.এম, বৃহস্পতি, ৩ জুলা ২০২৫
  • 950
নিজস্ব প্রতিবেদক:

দেশের লাইফ ও নন-লাইফ বীমা খাতের ৩২টি কোম্পানি আর্থিক দিক থেকে উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছে বীমা খাতের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)।

বুধবার (২ জুলাই) আইডিআরএ’র সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির চেয়ারম্যান ড. এম আসলাম আলম এ তথ্য জানান। এ সময় বীমা খাতের সংকট, সংস্কার ও বর্তমান অবস্থা সংক্ষিপ্তাকারে তুলে ধরেন তিনি। পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন এম. আসলাম আলম। তিনি বলেন, বীমা খাতের সংস্কারের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে খাত সংশ্লিষ্ট দুটি আইনের সংশোধন, দুটি নতুন আইন প্রণয়ন, দুটি বিধি ও দুটি প্রবিধান সংশোধনের প্রস্তাব আনা হয়েছে। অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতেই এগুলো চূড়ান্ত করা হবে।

তিনি বলেন, বীমা খাতে প্রতি বছরই ঝুঁকিপূর্ণ কোম্পানির সংখ্যা বাড়ছে। বর্তমানে জীবন বীমা খাতের ৩৬টি কোম্পানির মধ্যে ১৫টি উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। আর ১৫টি মধ্যম ঝুঁকিতে। স্থিতিশীল অবস্থানে রয়েছে ৬টি কোম্পানি।

এর মধ্যে যে কয়টি কোম্পানি উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে সেগুলো টিকে থাকতে অক্ষম পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। তবে যেসব কোম্পানি মধ্যম ঝুঁকিতে রয়েছে তাদের সমস্যাগুলো নিরসনযোগ্য, এগুলো ঠিক করা যাবে বলে জানান ড. এম আসলাম আলম।
এছাড়া নন-লাইফ বা সাধারণ বীমা খাতে ১৭টি কোম্পানি অর্থনৈতিকভাবে উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। যথা সময়ে বীমা দাবি পরিশোধে ব্যর্থতাসহ অন্যান্য সূচক পর্যালোচনা করে এই মূল্যায়ন করা হয়েছে বলে দাবি করেন আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান।

ড. এম আসলাম আলম বলেন, বর্তমানে জীবন বীমার ক্ষেত্রে ৪৫.২ শতাংশ এবং নন-লাইফ বীমার ক্ষেত্রে ৪৬.৯৮ শতাংশ দাবি অপরিশোধিত রয়েছে। এসব বীমা দাবি যথা সময়ে পরিশোধ এবং মানুষের আস্থা বাড়াতে বিভিন্ন আইন ও বিধি প্রণয়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। ব্যাংক রেজল্যুশনের আদলে বীমাকারির রেজল্যুশন অধ্যাদেশ প্রণয়নের সুপারিশ করা হয়েছে। এর আলোকে কেবল বীমা প্রতিষ্ঠান একীভূত হবে তেমন না; অবসায়ন, অধিগ্রহণসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হবে।

আসলাম আলম বলেন, জিডিপি অনুপাতে ২০১০ সালে বীমার হার ছিলো শূন্য দশমিক ৯৪ শতাংশ। ২০২৩ সালে তা কমে শুন্য দশমিক ৪১ শতাংশে নেমেছে। ২০২৪ সালে তা আরও কমেছে। তিনি জানান, আস্থা বাড়াতে প্রাতিষ্ঠানিক, আইনগত ও ডিজিটালি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
আইডিআরএ শুধু ২০২৪ সালে জীবন বীমা খাতের গ্রাহকদের ২৪ হাজার ৮৫২টি অভিযোগ পেয়েছে। নন লাইফের ৩৮ টি। তবে জনবল সংকটের কারণে এসব তদারকি করা সম্ভব হচ্ছে না। আইডিআরএতে ১৬০ জন অনুমোদিত জনবলের বিপরীতে মাত্র ১০৭ জন কর্মরত রয়েছে। জনবল বাড়ানোর জোর চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।

সম্প্রতি বীমা কোম্পানিগুলোর ব্যবসা নিবন্ধন নবায়ন ফি হাজারে ১ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করেছে আইডিআরএ।
এই অর্থ দিয়ে শুধু রুটিন ব্যয় নির্বাহ হয়, কোনো উদ্বৃত্ত থাকে না। তাই নিবন্ধন নবায়ন ফি ১ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ টাকা করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে ড. এম আসলাম আলম বলেন, “লোকবল বৃদ্ধি ও কার্যক্রম সম্প্রসারণের জন্য আমাদের খরচ বাড়বে, তাই আয় বাড়ানো দরকার। এই সব বিবেচনায় আমরা নিবন্ধন নবায়ন ফি বাড়ানোর প্রস্তাব করেছি।”

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “বর্তমানে সংস্থার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে ১২৪টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে এবং মামলা জটিলতা ক্রমেই বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক কাজগুলোতে আইডিআরএ অনেক ক্ষেত্রে ব্যর্থ হচ্ছে। এই কারণে বীমা আইন সংশোধন ও বীমা রেজল্যুশন অধ্যাদেশ-২০২৫ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা কার্যকর হলে আইডিআরএ আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।”

ড. আসলাম আলম বলেন, বর্তমান আইন ও বিধিমালার সীমাবদ্ধতার কারণে সংস্থার কাজ কার্যকরভাবে পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ১৯টি বীমা কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার পদ দীর্ঘদিন শূন্য থাকলেও আইনগত শিথিলতার কারণে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, “আমাদের পক্ষে কোম্পানির পরিচালনা বোর্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয় কারণ আইনে সেজন্য আমাদের কোনো ক্ষমতা দেয়া হয়নি।” তবে প্রস্তাবিত বীমা রেজল্যুশন অধ্যাদেশে বোর্ডের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে এবং প্রয়োজনে বোর্ড ভেঙে পুনর্গঠন করা যাবে।

তিনি বলেন, “বর্তমানে বীমা কোম্পানির সিইও পদে যোগ্য লোকের সংকট রয়েছে। মালিকরা দাবি করেন, উপযুক্ত প্রার্থী পাচ্ছি না। আমরা ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের বীমা কোম্পানির সিইও হিসেবে নিয়োগ দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছি, যা স্টেকহোল্ডারদের মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত হবে।”

 

ট্যাগs: