বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) প্রস্তাবিত ‘বীমা কর্পোরেশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে সাধারণ বীমা কর্পোরেশন (সাবীক) কর্মচারী ইউনিয়ন।
সংগঠনটির দাবি, প্রস্তাবিত এই সংশোধনী রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন লাভজনক প্রতিষ্ঠান সাবীকের অস্তিত্বের জন্য হুমকি, এবং এটি দেশের বীমা খাতে অরাজকতা, দুর্নীতি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে।
রোববার (১০ নভেম্বর) ইউনিয়নের সভাপতি কাজী আবদুর রহিম ও সাধারণ সম্পাদক মো. হানিফ স্বাক্ষরিত স্মারকলিপি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব এবং আইডিআরএ চেয়ারম্যান বরাবর জমা দেওয়া হয়।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, আইডিআরএ একতরফাভাবে আইন সংশোধনের খসড়া প্রণয়ন করেছে, কিন্তু স্টেকহোল্ডারদের মতামত না নিয়েই তা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেছে। প্রস্তাবিত অধ্যাদেশটি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হলেও আইডিআরএর নিজস্ব ওয়েবসাইটে কোন তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, যা স্বচ্ছতার অভাব নির্দেশ করে।
সরকারি সম্পত্তির সংজ্ঞা পরিবর্তনের আশঙ্কা
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, প্রস্তাবিত আইনে ‘সরকারি সম্পত্তির সংজ্ঞা’ পরিবর্তন করা হলে সাবীকের শতভাগ সরকারি সম্পত্তি বীমা কভারেজ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা শিথিল হবে। এতে সরকারি সম্পদের বীমা ব্যবসা বেসরকারি কিছু প্রভাবশালী কোম্পানির হাতে চলে যাবে, যা রাষ্ট্রীয় স্বার্থের পরিপন্থী।
এছাড়া ‘আন্তর্জাতিক রেটিং’ সংযোজনের মাধ্যমে বিদেশি বীমা কোম্পানির সঙ্গে সরকারি প্রকল্পে বীমা করার সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা মানিলন্ডারিং ও বৈদেশিক মুদ্রা পাচারের ঝুঁকি বাড়াবে বলেও আশঙ্কা জানানো হয়।
পুনঃবীমা বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার বিরোধিতা
আইনে প্রস্তাবিতভাবে ২০১৯ সালের বীমা কর্পোরেশন আইনের ১৭ ধারা বাদ দিয়ে পুনঃবীমা বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার উদ্যোগকে সাবীককে আর্থিকভাবে দুর্বল করার ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছে ইউনিয়ন।
তারা মনে করে, এতে দেশের বিপুল পরিমাণ প্রিমিয়াম অর্থ বিদেশে চলে যাবে, যা দেশের আর্থিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি।
পরিচালনা বোর্ড বৃদ্ধিকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ আখ্যা
ইউনিয়ন আরও বলেছে, বোর্ড সদস্য সংখ্যা ১১ থেকে ১৩ জনে উন্নীত করার প্রস্তাব অকার্যকর ও অপ্রয়োজনীয়। বরং ৭ সদস্যের বোর্ডে বেশি সংখ্যক অভিজ্ঞ বীমাবিদ রাখার প্রস্তাব করেছে তারা।
সাবীকের অবদান ও সতর্কবার্তা
কর্মচারী ইউনিয়ন জানায়, সাবীক রাষ্ট্রীয় কোষাগারে প্রতি বছর শত কোটি টাকা রাজস্ব ও লভ্যাংশ জমা দেয়।
২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠানটি ২৯৮.৮৭ কোটি টাকা, ২০২২ সালে ২৭০.৫৩ কোটি টাকা, আর গত দশ বছরে মোট ২,৮৮০ কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব সরকারকে দিয়েছে।
তারা সতর্ক করে বলেন, “লাভজনক সরকারি প্রতিষ্ঠান সাবীককে দুর্বল করে কিছু ব্যক্তির স্বার্থে আইন পরিবর্তনের ষড়যন্ত্র চলছে। এটি কার্যকর হলে বীমা শিল্পে অরাজকতা, অবৈধ কমিশন বাণিজ্য ও অনৈতিক প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।”
জাতীয় নির্বাচনের আগে অধ্যাদেশ আকারে আইন সংশোধনের এই উদ্যোগকে তারা ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ আখ্যা দিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছে—
“প্রস্তাব প্রত্যাহার না হলে সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের কর্মচারীরা বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।”











