২০২৩ সালের মধ্যেই পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে আইপিওতে যাওয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে চতুর্থ প্রজন্মের বীমা কোম্পানি প্রোটেক্টিভ ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড। আইপিওতে যেতে গত ৩০ এপ্রিল নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছে কোম্পানিটি। সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়েছে আইপিও ইস্যু ম্যানেজার কোম্পানির সঙ্গেও।
২০১৩ সালের আগস্টে যাত্রা শুরু করে পথ চলার এক দশকে স্বচ্ছতা ও আস্থার সব সূচকেই এগিয়ে গেছে প্রোটেক্টিভ ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্স।
২০২০ সালে অর্জন করে‘আইএসও-৯০০১:২০১৫’ সনদ। পাঁচ হাজারেরও বেশি উন্নয়ন কর্মকর্তা আর কর্মী নিয়ে বিগত বছরে প্রায় তিন কোটি গ্রাহকের কাছে স্বাস্থ্য বীমা সুবিধা পৌঁছে দিয়েছে প্রোটেক্টিভ লাইফ।
প্রতিষ্ঠার ৯ বছরে ২০২২ সাল পর্যন্ত প্রায় ৮২ কোটি টাকার বীমা দাবি পরিশোধ করে কোম্পানিটির দাবি পরিশোধের হার দাঁড়িয়েছে ৯১.২৫ শতাংশে।
সর্বশেষ ২০২২ সালে উত্থাপিত ২৫ কোটি ৪৪ লাখ দাবির বিপরীতে ২৪ কোটি ৪ লাখ টাকা পরিশোধ করে ৯৪.৫০ শতাংশ দাবিই নিষ্পত্তি করেছে প্রোটেক্টিভ ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্স।
২০২১ সালে সর্বোচ্চ ২৯.৮৩ কোটি টাকার দাবি পরিশোধ করেছে কোম্পানিটি। ২০২১ সালে কোম্পানিটির বীমা দাবি নিষ্পত্তির হার ছিল ৯০.৩১ শতাংশ।
এর আগে ২০২০ সালে ৯০.৬২ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৯১.৫২, ২০১৮ সালে ৭৪.৮৯, ২০১৭ সালে ৮৮.০৮, ২০১৬ সালে ৯০.৬৩ শতাংশ, ২০১৫, ২০১৪ সালে শতভাগ বীমা দাবি নিষ্পত্তি করে প্রোটেক্টিভ ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্স।

বর্তমানে প্রোটেক্টিভ ইসলামি লাইফের একক বীমা গ্রাহক সংখ্যা ২৮ হাজার ২৯৭। প্রধান কার্যালয়ের বাইরে সারাদেশে ২৭টি শাখা অফিসের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করছে। কোম্পানিটিতে উন্নয়ন কর্মকর্তা ও কর্মীর সংখ্যা ৫ হাজার ৫১০ জন।
সাফল্যের স্বীকৃতি: সাফল্য ও অগ্রযাত্রার এক দশকে প্রোটেক্টিভ ইসলামি লাইফের অর্জনের তালিকায় যুক্ত হয়েছে একাধিক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও। ২০১৯ সালে ‘মোস্ট ইনোভেটিভ মাইক্রো ইন্স্যুরার’ ক্যাটাগরিতে প্রথম স্থানে ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স অ্যাওয়ার্ড-২০১৯ অর্জন করে কোম্পানিটি। ২০২০ সালে কোম্পানিটি ‘কসমোপলিটান দ্যা ডেইলি’ থেকে ‘বেস্ট ব্যাংকাস্যুরেন্স অ্যাওয়ার্ড-২০২০’ অর্জন করে। ২০২০ সালে কোম্পানিটি এজেএ বাংলাদেশ লিমিটেডের তত্ত্বাবধানে ‘আইএসও-৯০০১:২০১৫’ সনদ প্রাপ্ত হয়।
প্রোটেক্টিভ ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের স্বাস্থ্যবীমা প্রকল্পের ভূয়সী প্রশংসা করে পত্র দিয়েছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাস্তবায়নকারী রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশনের (রোসাটম) প্রকৌশল শাখা এটমস্ট্রয় এক্সপোর্ট (এএসই)।
ওই প্রকল্পে কর্মরত রাশিয়ান কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গত ৪ বছরে (২০১৯-২০২২) কোভিড এবং ডেঙ্গুর মতো মহমারির সময়ে স্বাস্থ্যসেবাসহ প্রায় ৪৪ কোটি টাকা বীমা দাবি পরিশোধ করেছে প্রোটেক্টিভ লাইফ। এই বিপুল পরিমাণ বীমা দাবি পরিশোধ করায় ‘বিশেষ প্রশংসাপত্র’ দিয়েছে রোসাটম।
এক দশকের সার্বিক অগ্রগতি নিয়ে কোম্পানিটির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) ডা. কিশোর বিশ্বাস বলেন, “আমার জীবন আমার সম্পদ, বীমা করলে থাকবে নিরাপদ” এই শ্লোগানকে ধারণ করে স্বাস্থ্য সেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে প্রোটেক্টিভ ইসলামি লাইফ ইন্সুরেন্স।
আধুনিক ডিজিটাল পদ্ধতিতে এবং যুগোপযোগী পরিকল্পনা প্রণয়নের মাধ্যমে ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও ২০৪১ সালের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকারের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় প্রোটেক্টিভ লাইফ সহযাত্রী হয়ে আছে।
মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, স্বচ্ছ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে গ্রাহকের কাছে বীমার ইতিবাচক ইমেজ সৃষ্টি করতে আমাদের কর্মকর্তারা প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন।আমরা সবচেয়ে কম সময়ের মধ্যে বীমা দাবি পরিশোধ করে থাকি।
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তি নিয়ে তিনি বলেন, আমরা গত বছর থেকেই আইপিওতে যাওয়ার জন্য ইস্যু ম্যানেজারের সঙ্গে কাজ করছি। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ আমাদের প্রসপেক্টাস ইতিমধ্যে ওয়েবসাইটে দিয়েছে। আরো কিছু প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আশা করছি প্রোটেক্টিভ লাইফ ইন্সুরেন্স অক্টোবর নাগাদ আইপিওতে যাওয়ার সুযোগ পাবে।











