একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে, উদ্যোক্তা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন বদরুল আলম খান। সামনে ছিল দেশগড়ার মহান লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ২০০১ সালে পরিচালক হিসেবে যোগ দেন গাজী গ্রুপে। সেই থেকে গ্রুপটির ব্যবসা-বাণিজ্য, প্রবৃদ্ধি ও সম্প্রসারণের সঙ্গে নিরলসভাবে যুক্ত রয়েছেন তিনি। ২০১৭ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করছেন যমুনা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান হিসেবে। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও দূরদর্শী ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ হয়ে এগিয়ে যাচ্ছে কোম্পানিটি।
যমুনা লাইফসহ বাংলাদেশের বীমা খাতের সমস্যা-সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও অগ্রগতি নিয়ে সম্প্রতি বিশেষায়িত সংবাদমাধ্যম ‘ইন্স্যুরেন্স ইনসাইডার’কে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তিনি। নাসির আহমাদ রাসেলকে দেয়া এই সাক্ষাৎকারে খাতসংশ্লিষ্ট বেশ কিছু বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য তুলে ধরেছেন বদরুল আলম খান।

তিনি মনে করেন, দেশের বীমা খাতকে আরো পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। পৌঁছে দিতে হবে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে।তিনি বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাতের একটি স্ট্যান্ডার্ড রয়েছে। নিয়োগ পলিসি রয়েছে। বীমা খাতেও তেমন স্ট্যান্ডার্ড নিয়োগ পলিসি থাকা উচিত।কারণ, ব্যাংক এবং বীমার মধ্যে পার্থক্য নেই। বরং বীমা কঠিন। কারণ বীমার দরজা খুললেই খরচ।এজন্য বীমাখাত সংশ্লিষ্ট কর্মীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ থাকতে হবে।এমনকি নিয়ন্ত্রক সংস্থাতেও বীমা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ডিগ্রিধারী বা গ্রাজুয়েটদের নিয়োগ দিতে হবে। কারণ বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাটিতে যে সরকারি কর্মকর্তারা যোগ দেন, বীমা বিষয়ে বুঝে উঠতে না উঠতেই তাদেরকে আবার অন্য কোন দপ্তরে চলে যেতে হয়।

সবার জন্য বীমা নিশ্চিতকরণে সামগ্রিক উদ্যোগ যথেষ্ট কি না জানতে চাইলে-দেশের বীমা খাতের অভিজ্ঞ এই উদ্যোক্তা বলেন, বীমা খাতে একটি প্রাতিষ্ঠানিক শূন্যতা রয়ে গেছে। এই শূন্যতা দূর করে বীমাকে এগিয়ে নিতে, বীমার সুফল সবার দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হলে একটি সঠিক অ্যাকশন প্ল্যান করতে হবে। সেখানে সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং বীমা কোম্পানি- কার কি দায়িত্ব সেটি নির্ধারণ করতে হবে।বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এবং কোম্পানিগুলো যৌথভাবে এই কাজ সম্পন্ন করতে পারে। এটি একটি বড় কাজ। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বড় এই কাজটি সম্পন্ন করার উদ্যোগ নিতে পারে।
বদরুল আলম খান বলেন,বীমায় জনগণের আস্থা বাড়াতে অনেকগুলো সংস্কার করতে হবে। অন্তর্ভুক্তিমূলক বীমা বা সবার জন্য বীমা নিশ্চিত করতে প্রাতিষ্ঠানিক স্বাস্থ্য বীমা বীমা নিশ্চিত করতে হবে বলে মত দেন এই বীমা উদ্যোক্তা। তিনি বলেন, একেবারেই স্কুল পর্যায় থেকে শিক্ষার্থীদেরকে স্বাস্থ্য বীমার আওতায় নিয়ে আসতে হবে। দেশের বিপুলসংখ্যক কৃষিজীবী মানুষকে ফসলের সাথে সমন্বয় করে বীমার আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব। শিল্প কারখানায় শ্রমিকদের গ্রুপবীমা নিশ্চিত করতে হবে। রাজধানী ঢাকায় অন্তত কয়েক লক্ষ রিকশা চালক রয়েছেন তাদেরকে মাইক্রো প্রিমিয়ামের মাধ্যমে বীমার আওতায় নিয়ে আসে সম্ভব। দেশে বীমার একটি বিরাট বাজার সম্ভাবনা রয়েছে। বীমা কত বড় খাত আমাদের নীতি নির্ধারকদের সেটি বুঝতে হবে। বীমাকে সঠিক পথে আনতে হবে। প্রয়োজনে বীমা বিষয়ক একজন সচিব নিয়োগ দিতে হবে।

যমুনা লাইফ ইন্সুরেন্সের ব্যবসায়িক অগ্রগতি সম্পর্কে কোম্পানিটির চেয়ারম্যান বদরুল আলম খান বলেন, মেয়াদপূর্তিসহ সকল বীমা দাবি পরিশোধের সক্ষমতা ও ব্যবস্থাপনা আমাদের রয়েছে। সারভাইভাল বেনিফিট, মৃত্যুদাবি, গোষ্ঠী বীমা দাবি আমরা যথাযথভাবে পরিশোধ করছি। আগামী বছরেই পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে যমুনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স।
(সাক্ষাৎকারের বিস্তারিত রয়েছে আগামী পর্বে)











