New York
মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
Breaking
ব্র্যাক ব্যাংকের ইস্যু করা দেশের প্রথম সোশ্যাল বন্ডে মেটলাইফের ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ জীবন বীমা কর্পোরেশনের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিয়াউল হক সোনালী লাইফের ২০২৬ সালের প্রথম মাসিক ব্যবসা উন্নয়ন সভা নন-লাইফ বীমায় শূন্য কমিশন বাস্তবায়নে মনিটরিং কমিটি গঠন মেটলাইফের ‘এজেন্সি অব দ্য ইয়ার ২০২৫’ পেল সুমন এজেন্সি নন-লাইফ বীমায় কমিশনের নামে আর্থিক সুবিধা নিষিদ্ধ, আইন ভাঙলে শাস্তি: আইডিআরএ তরুণদের নতুন ভরসা বীমা পেশা সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের দ্বাদশ বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত শক্তিশালী লাইফ ফান্ডে মজবুত ভিত্তি গার্ডিয়ান লাইফের বেঙ্গল ইসলামি লাইফ ও ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মধ্যে কর্পোরেট চুক্তি

ব্যাংকাসুরেন্স: ব্যাংক-বীমা খাতের সম্ভাব্য জিয়নকাঠি

  • প্রকাশের সময় : ২ বছর ১১ মাস ৬ দিন ২০ ঘন্টা ৫০ মি. আগে, ০৪:০১:৪০ পি.এম, শনি, ১১ ফেব্রু ২০২৩
  • 14938
নূর–উল–আলম:

বাংলায় বিমা ব্যবসার ইতিহাস ২০০ বছরেরও বেশি পুরোনো। কেননা ভারতবর্ষের প্রথম বিমা কোম্পানি ওরিয়েন্টাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি প্রতিষ্ঠিত হয় কলকাতায় ১৮১৮ সালে। ব্রিটিশ ভারতে বিমাশিল্প বেশ সমৃদ্ধ ছিল। তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ সময়কালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে বিমা ব্যবসাও বেশ ভালো অবস্থায় ছিল। কিন্তু স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের ইন্স্যুরেন্স বা বিমাশিল্প তার ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। অথচ স্বাধীনতার আগে এ খাত বেশ সমৃদ্ধ ছিল, ছিল বিশ্বমানের বিশ্ববাজারের অংশ। সেই সময় বিদ্যমান ৪৯টি বিমা কোম্পানির মধ্যে ১০টির প্রধান কার্যালয় ছিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে, ২৭টির প্রধান কার্যালয় ছিল তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানে এবং বাকি ১২টি বিমা কোম্পানির প্রধান অফিস ছিল পাকিস্তানের বাইরে বিশ্বের নানা দেশে। বিশ্বের অন্যান্য দেশ যে খাতে এগিয়েছে সামনের দিকে, আমরা রয়ে গেছি সেই তিমিরেই সত্তরের দশকের যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশে। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর জিডিপিতে বিমা অবদান গড়ে ১০ শতাংশের মতো। অথচ বাংলাদেশের জিডিপিতে বিমা কোম্পানিগুলোর অবদান মাত্র দশমিক ৯ শতাংশ। অর্থাৎ এক শতাংশেরও কম!

 

 

শুধু গ্রাহকদের আস্থাহীনতা, ব্যাংকের একশ্রেণির শাখা ব্যবস্থাপক এবং বিমা গ্রাহক কোম্পানিগুলোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনৈতিক কমিশন বাণিজ্যের লোভের কারণে সম্ভাবনার এ বাজার আজ দিগ্ভ্রান্ত নাবিকের মতো চলছে। এককথায় জীবন বিমা কোম্পানিগুলো ধুঁকছে গ্রাহকদের আস্থাহীনতা তথা আস্থার অভাবে এবং সাধারণ বিমা কোম্পানিগুলো ধুঁকছে একশ্রেণির ব্যাংক শাখা ব্যবস্থাপক ও বিমা গ্রাহক কোম্পানিগুলোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনৈতিক কমিশন বাণিজ্যের লোভে। অথচ কোনো রকম নজরদারি ও করের

 

 

ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকে সেই ব্যাংক শাখা ব্যবস্থাপকরা এবং বিমাগ্রাহক কোম্পানিগুলোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হচ্ছেন। এদিকে সম্প্রতি ব্যাংকশিল্পও আশানুরূপ ফল দিচ্ছে না। সুতরাং ব্যাংকাসুরেন্সই হতে পারে এর অন্যতম সমাধান। কারণ ব্যাংক ও বিমা কোম্পানির অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বিমা পণ্য বিক্রি করা গেলে অনেক সমস্যার সমাধান হতো সহজে।

 

 

বিমা খাতে বিদ্যমান পণ্য বা সেবার ধরন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, জীবন বিমার অনেক পলিসি বা পণ্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে প্রচলিত মেয়াদি হিসাবের অনুরূপ। কিন্তু এর বাড়তি সুবিধা হলো, পলিসিগুলো বিমা গ্রাহকের মৃত্যুঝুঁকিসহ আরও অনেক ঝুঁকি বহন করে থাকে। যদিও মেয়াদান্তে পলিসি গ্রাহকের সম্ভাব্য মোট জমা ব্যাংকের তুলনায় কম হয়। গ্রাহকদের কাছে সে বিষয়টাও গৌণ। কেননা ঝুঁকি মানব অভিজ্ঞতার সবচাইতে অবিরত ঘটমান ও চ্যালেঞ্জিং বিষয়। অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে আর্থিক সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে একমাত্র বিমাই গ্রাহকদের স্বাস্থ্য, দ্রব্যসামগ্রী ও ব্যবসায়ের ঝুঁকির প্রভাব হ্রাস করে।

 

 

জীবন বিমার ক্ষেত্রে মূল সমস্যা হলো জীবন বিমা কোম্পানিগুলোর প্রতি গ্রাহকদের আস্থার সংকট বা আস্থাহীনতা, যার শিকড় জীবন বিমা কোম্পানিগুলোর সেবা বিক্রি প্রক্রিয়ায় নিহিত। জীবন বিমা কোম্পানিগুলো এজেন্টচালিত। জীবন বিমা কোম্পানিগুলো সেবা বিক্রির জন্য অতিমাত্রায় এজেন্টদের ওপর নির্ভরশীল। আইন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এসব এজেন্ট কোম্পানির প্রতিনিধি হিসেবে বিবেচিত হন না। অথচ গ্রাহকরা মূলত এজেন্টদের কাছেই প্রিমিয়ামের অর্থ জমা দেন। ফলে গ্রাহকদের জমা করা অর্থ বিমা অফিসে সঠিকভাবে ও সময়মতো জমাদান, গ্রাহকদের তথ্য পূরণ এবং প্রিমিয়ামের জমাকৃত অর্থ ফেরত পাওয়ার প্রশ্নে একটা সংকট তৈরি হয়েছে।

 

 

বাংলাদেশে প্রচলিত ‘বিমা আইন, ২০১০’-এর ধারা ৫৮(৩) বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, একজন এজেন্ট তার সংগৃহীত বিমা পলিসির প্রথম বছরের প্রিমিয়ামের শতকরা ৩৫ ভাগ, দ্বিতীয় বছরের নবায়ন প্রিমিয়ামের শতকরা ১০ ভাগ এবং পরবর্তী বছরগুলোয় (পরবর্তী আট বছর) নবায়ন প্রিমিয়ামের শতকরা পাঁচ ভাগ কমিশন হিসেবে পেয়ে থাকেন। ফলে নগদ অর্থের লোভে এজেন্টরা নতুন গ্রাহক খোঁজায় ব্যস্ত থাকেন। পুরোনো গ্রাহকদের ফলো-আপ করার অভাবে জীবন বিমা পলিসি তামাদি হয়ে পড়ে। পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, বাংলাদেশে জীবন বিমা পলিসিগুলোর প্রায় ৮০ শতাংশই মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত টেকে না। উপরন্তু মেয়াদ শেষে তামাদি কিংবা পূর্ণ মেয়াদ পর্যন্ত জমাকৃত পলিসি অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রশ্নে বিমা কোম্পানিগুলোর উদসীনতা ও দীর্ঘসূত্রতা গ্রাহকদের আস্থার সংকটকে প্রকট থেকে আরও প্রকটতর করে তুলেছে। গ্রাহকের অভাবে কিছু জীবন বিমা কোম্পানি পল্লি বা মফস্বল এলাকায় নিজেদের শাখা বন্ধ করে দিয়েছে এবং অন্যান্য কোম্পানির অধিকাংশ শাখাও প্রায় নিভু নিভু।

 

 

অন্যদিকে নন-লাইফ বা সাধারণ বিমা কোম্পানিগুলোর শাখা দ্বারা চালিত। এগুলোর সংকটের প্রধানতম কারণ এজেন্ট কমিশনে গ্রাহকদের ভাগ বসানো বা ডিসকাউন্টিং। ব্যবসা সংগ্রহে নিজেদের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে বিমা কোম্পানিগুলোর এজেন্ট কমিশনের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বিমা গ্রাহকসংশ্লিষ্ট কিছু অসাধু চক্র। একশ্রেণির ব্যাংক কর্মকর্তা ও বিমা গ্রাহক কোম্পানিগুলোর কমার্শিয়াল কর্মকর্তাদের লোভে নন-লাইফ বিমা কোম্পানিগুলো বাধ্য হয়ে তাদের হাতে তুলে দিচ্ছে বিমাকর্মীদের জন্য বরাদ্দ এ খাতে মজুরির পুরোটাই। ফলে নন-লাইফ বিমা কোম্পানিগুলোর ব্যবসায় খরচ বাড়ছে, অপারেশনাল মূলধন বেশি লাগছে এবং তারা বঞ্চিত হচ্ছে লাভের বিশাল একটা অংশ থেকে। অর্থনৈতিক সক্ষমতা কমে যাওয়ায়

 

 

নন-লাইফ বিমা কোম্পানিগুলোর শেয়ার বাজারসহ অন্যান্য খাতে বিনিয়োগের সক্ষমতা কমে যাচ্ছে। একই কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে তাদের ক্লেইম পরিশোধের সক্ষমতাও। শতকরা হিসেবে যদিও তা মোট বিমা ব্যবসার ১৫ শতাংশর মতো, কিন্তু অঙ্কের হিসেবে সেটা বিশাল! অন্যদিকে ব্যাংক কর্মকর্তা এবং বিমা গ্রাহক কোম্পানিগুলোর কমার্শিয়াল কর্মকর্তাদের অনানুষ্ঠানিক আয় হওয়ার কারণে সরকার বঞ্চিত হচ্ছে আয়কর রাজস্ব থেকে। উপরন্তু ইনফরমাল বা অনানুষ্ঠানিক আয় হওয়ায় এসব আয় জিডিপি গণনায়ও বাদ পড়ছে।

 

 

ব্যাংকাসুরেন্স চালু হলে গ্রাহক আস্থাহীনতা এবং ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপকদের অনৈতিক কমিশন বাণিজ্যের দৌরাত্ম্য কাটিয়ে বিমা শিল্প হবে ব্যাংকশিল্পের প্রধানতম মূলধন এবং তারল্য ও মুনাফার জোগানদাতা। গ্রাহক পাবে বিনিয়োগের নতুন খাত এবং ব্যাংকের মাধ্যমে জমা দেওয়া তার পাওনা ও প্রিমিয়ামের বিপরীতে প্রাপ্য অর্থ দ্রুততম সময়ে ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তা। এটি এমন একটি সমন্বিত ব্যবস্থা, যেখানে গ্রাহক, বিমা কোম্পানি ও ব্যাংক সবাই লাভবান হবে; লাভবান ও সমৃদ্ধ হবে দেশ। এতে ন্যূনতম খরচে একই গ্রাহকের অর্থ একাধিক খাতে হাতবদল হওয়ায় অর্থনীতিতে নতুন গতির সঞ্চার হবে, স্ফীত হবে জাতীয় আয় ও জিডিপি।

 

 

জাতীয় আয় বৃদ্ধির কাজটি কীভাবে হয় বিশ্লেষণ করলে বিষয়টি বুঝতে আরও সুবিধা হবে। প্রথমেই দেখা যাক, আমরা আয় করে আসলে কী করি? ব্যক্তিমাত্রই আয় করে তার একটা অংশ ব্যয় বা ভোগ করেন এবং উদ্ধৃতাংশ সঞ্চয় করেন। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয় তিনি বিনিয়োগ করেন। এরূপ ব্যষ্টিক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয় সামষ্টিকভাবে বিশাল মূলধনের জোগান দেয়। সামষ্টিকভাবে সব আয়, ব্যয় তথা ভোগ, সঞ্চয়, বিনিয়োগ কিংবা উৎপাদন বৃদ্ধি চক্রাকারে জাতীয় আয় বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলে। কেননা অর্থনীতিতে কোনো একটি উপাদান বা চলকের হ্রাস-বৃদ্ধি অপরাপর চলকগুলোর হ্রাস-বৃদ্ধিতে সরাসরি প্রভাব ফেলে।

 

 

যদি সম্পূর্ণ বিষয়টিকে আয়ের দৃষ্টিতে দেখা হয়, তাহলে দেখা যায় জনগণের আয় বাড়লে সঞ্চয় বাড়ে, সঞ্চিত অর্থ মূলধনের জোগান বাড়ায়, ফলে মূলধন বাড়ে। নতুন মূলধন বিনিয়োগ বাড়ায় এবং বর্ধিত বিনিয়োগ কর্মসংস্থান বাড়ায়; আবার জনগণের আয়ও বাড়ে। এভাবে চক্রাকারে চলতে থাকে। অপরদিকে যদি ব্যয়ের দৃষ্টিতে দেখা হয়, তখন দেখা যায় ব্যয় বাড়লে জনগণের দ্রব্যসামগ্রী বা সেবা ক্রয়ের চাহিদা ও ভোগ বাড়ে। এ বর্ধিত চাহিদার কারণে তৈরি হওয়া নতুন জোগান মেটাতে বিনিয়োগ বাড়ে। ফলে কর্মসংস্থান বাড়ে এবং দেশের মোট উৎপাদন বাড়ে। বর্ধিত কর্মসংস্থান ও উৎপাদনের কারণে জনগণের আয় বাড়ে। আয় বাড়ায় জনগণের হাতে অতিরিক্ত অর্থ আসে এবং বর্ধিত অর্থ ব্যয় তথা ভোগ বাড়ায়। এভাবে চক্রাকারে চলতে থাকবে।

 

 

বর্ণিত কার্যক্রমগুলোর কোনো একটি অনুঘটকের ইতিবাচক পরিবর্তন বাকিগুলোরও ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটায়। উদাহরণ হিসেবে কয়েকটি দেশের জাতীয় আয়ের মূল অনুঘটকগুলো বলা যেতে পারে। ভেনেজুয়েলা ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর জাতীয় আয় বৃদ্ধির অনুঘটক হলো তেল উৎপাদন তথা তেল রপ্তানির মাধ্যমে আয় বৃদ্ধি। একসময়কার জেলেপাড়া সিঙ্গাপুরের সমৃদ্ধির মূলে আছে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে স্থাপিত সমুদ্রবন্দরের সেবা প্রদান করে জাতীয় আয় বৃদ্ধি। চীনকে বলা হয় পৃথিবীর কারখানা; চীনের জাতীয় আয় বৃদ্ধির অনুঘটক হলো ব্যাপক পণ্য উৎপাদন। এটা সবারই জানা, আজকের সমৃদ্ধ মালয়েশিয়ার মূলে রয়েছে সঞ্চয় বৃদ্ধির ইতিহাস এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মচাঞ্চল্যের মূলে আছে ভোগ বৃদ্ধি।

 

 

শুধু ভোগ বৃদ্ধি, যার প্রধান অর্থ জোগানদাতা প্রবাসী আয় ও তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি আয় দিয়ে বাংলাদেশের পক্ষে তার ঈপ্সিত অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব নয়, কেননা পাল্লা দিয়ে বাড়ছে জনসংখ্যা। অথচ বিনিয়োগের বিকল্প খাত তৈরি না হওয়ার ফলে বিনিয়োগ বাড়ছে না, বাড়ছে না কর্মসংস্থানও। ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে যোগ হয়েছে শিক্ষাব্যবস্থায় বিদ্যমান প্রায় শতভাগ পাসের হার। ফলে বাড়ছে পুঞ্জীভূত ব্যাপক বেকারত্ব। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মতে, বাংলাদেশে শিক্ষিত বেকারের হার প্রায় ৪.৬ শতাংশ (২০১৯)। সংখ্যার হিসাবে তা প্রায় এক কোটি ৩৮ লাখ! মনে রাখতে হবে এ পরিসংখ্যানে ছদ্ম বেকারত্বকে বিচেনায় নেওয়া হয়নি। তা বিবেচনায় নিলে হারটি আরও বাড়বে।

 

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ বর্তমানে নিউইয়র্ক স্টেট ইউনিভার্সিটির অর্থনীতির অধ্যাপক ড. বিরুপাক্ষ পাল সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিককে দেওয়া সাক্ষৎকারে উচ্চ জিডিপি সত্ত্বেও বাংলাদেশে বেকারত্ব কেন বাড়ছে এমন প্রশ্নের জবাবে আয়ের অনানুষ্ঠানিক খাতের বিশালত্বকে দায়ী করেন। অনানুষ্ঠানিক আয় হলো মূলত সেসব আয়, যা আয়কারী আয় হিসাবে কোথাও প্রকাশ করেন না। ফলে প্রাথমিকভাবে তা জিডিপি গণনায় বাদ পড়ে যায়। প্রসঙ্গক্রমে তিনি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ডেটার মান নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন। তিনি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ব্যবহার করা

 

 

তথ্য-উপাত্তকে পৃথিবীতে সবচেয়ে মানহীন বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, প্রত্যেক দেশই তথ্য-উপাত্তের সত্যতা এবং আর্ন্তজাতিক মান বজায় রাখতে পাঁচ স্তর বিশিষ্ট ফিল্টারিং করে, যা বাংলাদেশ অনুসরণ করে না। তাই শুনতে অস্বস্তি লাগলেও বলতে হয়, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রদত্ত তথ্য-উপাত্ত পৃথিবীতে সবচেয়ে মানহীন। আরও অনেক গবেষকও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য-উপাত্তের মান নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, বেকারত্বের প্রকৃত সংখ্যাটি সন্দেহাতীতভাবে আরও অনেক বড় হবে।

সহযোগী সদস্য, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড সেক্রেটারিজ

( বিশ্লেষণধর্মী এই নিবন্ধটি সর্বপ্রথম ২০১৯ সালে দেশ বিদেশের একাধিক খ্যাতনামা জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। লেখকের অনুমতি নিয়ে এখানে পুনঃ প্রকাশিত হলো)

 

 

 

 

 

 

ট্যাগs: