- ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে দাখিল করতে হবে তিন বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা
- কমাতে হবে ব্যবস্থাপনা ব্যয়
- নিয়মিত মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগের তাগিদ
নাসির আহমাদ রাসেল: সঠিক সময়ে গ্রাহকের বীমা দাবি পরিশোধ নিশ্চিতকরণ, বীমা খাতে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সিরিজ বৈঠকের অংশ হিসেবে সোমবার পদ্মা ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে বৈঠক করেছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)।
আইডিআরএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জয়নুল বারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় কর্তৃপক্ষের সকল সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পদ্মা ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পক্ষে পরিচালক মো. আলী হোসাইনের নেতৃত্বে কোম্পানিটির পাঁচ পরিচালক ও চলতি দায়িত্বে থাকা মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মোরশেদ আলম সিদ্দিকী সভায় অংশ নেন। কোম্পানিটির চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম অসুস্থতাজনিত কারণে বৈঠকে অংশ নিতে পারেননি বলে সূত্র জানিয়েছে।
সূত্র জানায়,
যেসমস্ত কোম্পানির বকেয়া বীমা দাবি ও গ্রাহকের অভিযোগ তুলনামূলক বেশি, লাইফ ফান্ডের পরিমাণ কম, মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ নিয়ে জটিলতা, বিনিয়োগ ও ব্যবস্থাপনা ব্যয়ে নানা অনিয়ম দুর্নীতি রয়েছে প্রাথমিকভাবে সেসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সাথে এই মতবিনিময় করছে আইডিআরএ। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য কোম্পানিগুলোর সাথেও এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে সানফ্লাওয়ার লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও প্রাইম লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক শেষ করেছে কর্তৃপক্ষ। বৈঠক সম্পর্কে জানতে চাইলে আইডিআরএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জয়নুল বারী ব্যাংক বীমা অর্থনীতিকে বলেন, গ্রাহকের বীমা দাবি পরিশোধ নিশ্চিতকরণ ও বীমা খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে কোম্পানিগুলোর পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে এই বৈঠক করা হবে।
সোমবার পদ্মা লাইফ পর্ষদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় কোম্পানিটির বীমা প্রিমিয়াম আয়, বীমা রিনিউয়ের হার, ব্যবস্থাপনা ব্যয়, লাইফ ফান্ডের পরিমাণ, বিনিয়োগ, অনিষ্পন্ন বীমা দাবির পরিমাণ, পরিশোধিত বীমা দাবির পরিমাণ ইত্যাদি বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে কোম্পানির সার্বিক অবস্থা উন্নয়নের জন্য তিন বছর মেয়াদি একটি সময়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে আইডিআরএ দাখিল করতে নির্দেশনা দেয়া হয়। এছাড়া দ্রæত বীমা দাবি পরিশোধ ও কর্তৃপক্ষের জারিকৃত সকল নির্দেশনা ও অনুশাসন যথাযথভাবে পরিপালনের নির্দেশনা দেয়া হয় পদ্মা লাইফকে।
বৈঠকে পদ্মা লাইফের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয় নিয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আপত্তি তোলা হয়। একইসঙ্গে বীমা দাবি পরিশোধে
এস আলম গ্রæপের পক্ষ থেকে কোম্পানিটিতে স্বল্প সময়ের জন্য বিনা সুদে শত কোটি টাকার যে ঋণ দেয়া হচ্ছে সে বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া কোম্পানির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ সদস্যদের ব্যাপারেও সন্তোষ প্রকাশ করেন কর্তৃপক্ষ।
পদ্মা লাইফে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগের বিষয়ও উঠে আসে আইডিআরএ’র ওই সভায়। এ সময় নিয়মিত মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগের ব্যাপারে আইডিআরএ’র তাগিদ আমলে নিয়ে পর্ষদ সভায় সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা জানান পরিচালকরা।
দীর্ঘদিন ধরেই ভারপ্রাপ্ত মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা দিয়ে চলছে পদ্মা লাইফ ইন্স্যুরেন্স। ২০১৯ সালের মে মাস থেকে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কোম্পানিটির মুখ্য নির্বাহীর চলতি দায়িত্ব পান মোঃ মোরশেদ আলম সিদ্দিকী। ২১ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মুখ্য নির্বাহীর দায়িত্ব পালন করেন এ কে এম শরীফুল ইসলাম। এরপর থেকে আবারও মুখ্য নির্বাহীর চলতি দায়িত্বে রয়েছেন মোঃ মোরশেদ আলম সিদ্দিকী। #













